আমরা কয়েকজন চিলেকোঠার সেপাই

189294590_2646742142286628_32753078201419159_n
Bangladeshi blogger Russel Parvez, Subrata Shuvo and Mosiur Rahman Biplab had been arrested for allegedly hurting religious sentiment on 1st April 2013.

পর্ব- ১

ঘটনার শুরু শাহবাগ আন্দোলন থেকে। ‘হেফাজতে ইসলাম’ ব্লগ দিয়ে যেসব নাস্তিক ব্লগার ইন্টারনেট চালায় তারা তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবী করে বসল। শাহবাগ আন্দোলনের সময় প্রথম খুন হন রাজিব হায়দার। এরপর থেকে নাস্তিক ব্লগারদের নামে বিভিন্ন লিস্ট, সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন সর্তকবার্তা, এ নিয়ে বেশ যুদ্ধের ডামাডোল বাজতে থাকে। শাহবাগ সৃষ্টি হওয়ার ফলে কেউ বা ছবি তুলে নেতা বা উদ্দ্যোগক্তা হলেন কেউ আবার হেফাজতের উত্থানের ফলে পকেটের টুপিটা মাথায় দিলেন। হেফাজতের দাবীর মুখে সরকার কতিপয় নাস্তিক ব্লগার ধরার মিশনে নামল। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ডিবি নাস্তিক চায় নাস্তিক্যবাদী লেখক নয়। তাই কে কী লিখেছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয় ব্যক্তি অবিশ্বাসী হলেই চলবে।

১ এপ্রিল, রাত দশটার দিকে ডিবি পুলিশ আমাকে এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে হলের সামনে থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে তারা আমাকে ব্লগারদের নিরাপত্তার বিষয়ে মিটিং আছে বলে জানায়। ছোট ভাইটিও ব্লগার। ধরি তার নাম ‘ক’। গাড়িতে বিপ্লব ভাই বসে আছেন। বিপ্লব ভাইয়ের সাথে এর আগে একবার দেখা হয়েছিল। তাই আর মিটিংয়ের কথা উড়িয়েও দিলাম না। গাড়িতে ওঠার পর গাড়ী চলতে শুরু করল। ডিবি এক অফিসার ব্লগ ও কিছু ব্লগার নিয়ে কিছু কথা জিজ্ঞেস করতে শুরু করল। খেয়াল করলাম ছোট ভাইটি পেছনে ভয়ে চুপসে আছে। আমাকে ব্লগার ‘শ’ সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করল। আমি ঐ ব্লগার সর্ম্পকে যতটুকু বলা উচিত ততটুকু বললাম। তারা আমাকে গ্রেফতার করতে আসেনি। তারা ব্লগার শ’কে চায়। তাকে আমি চিনি এই কারণে আমাকে নেওয়া হয়। আমি যেন; শ’কে বাসা থেকে ডেকে আনতে পারি। কারণ তারা জানে আমি ঐ ব্লগারের সাথে আমার একটু যোগাযোগ আছে। ১ এপ্রিলের আগে অনেক ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা ডিবি অফিসে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে এসেছে। সেখানেই ব্লগার শ’কে ধরার জন্য আমার নামটি আসে। যাই হোক, আমাকে এক ব্লগারকে বাসা থেকে নামিয়ে আনতে বলা হয়। আমি তা করতে পারব না বলে জানিয়ে দিই। তারপর তারা অনেকক্ষণ ঐ বাসা সামনে কী পরামর্শ করল জানি না। তারা আমাকে গাড়িতে গিয়ে বসতে বলল। আমি গাড়িতে গিয়ে বসি । তারপর গাড়ি চলতে শুরু করল শাহবাগের দিকে। শাহবাগে ছোট ভাইটিকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল ডিবি অফিসের দিকে। আমি আর বিপ্লব ভাই চুপ করে বসে আছি। আমরা তখনও অনুমান করতে পারিনি আমরা গ্রেফতার হতে চলছি। কী হচ্ছে, কী হবে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ডিবি অফিসে বসিয়ে রাখার পর রাত প্রায় ২.০০ দিকে আমাদের দুই জনকে সেল এর সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেল এর সামনে গিয়ে দেখি রাসেল ভাই বসে আছে। আমি রাসেল ভাইকে দেখে সত্যি অবাক হলাম। কারণ আর কিছু হোক এই মানুষটি এখানে বসে থাকার কথা না। পরে জানতে পারলাম- ডিবি ব্লগ সর্ম্পকে জানতে চায় তাই রাসেল ভাই এখানে এসেছিলেন ব্লগ সর্ম্পকে তাদের ধারণা দেবার জন্য। ডিবি অফিসে আসার সময় রাসেল ভাই’র বৌ লিপি ভাবি তাকে বারণ করেছিলেন ডিবি অফিসে না যাবার জন্য। এই বারণ করার বিপরীতে রাসেল ভাইয়ের কথা ছিল- ডিবি ব্লগ সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছে। আর রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে আমার উচিত রাষ্ট্রকে সাহায্য করা। তারা যদি ব্লগ সর্ম্পকে জানতে চায় তাহলে কেন সাহায্য করব না।

বিপ্লব ভাই রাজিব হায়দার হত্যা মামলায় সাহায্য করার জন্য অনেক দিন ধরেই ডিবি অফিসে যাতায়াত করছেন। ব্লগে কী হয়, কী জন্য ক্যাচাল লাগে এ নিয়ে ডিবি জানতে চেয়েছে। বিপ্লব ভাই এ বিষয়ে বলার জন্য রাসেল ভাইকে ডিবি অফিসে আসতে বলে। কে জানত ডিবিকে সাহায্য করতে আসার কারণে তার জন্য অনেক বড় একটা পুরষ্কার অপেক্ষা করছে। রাত ১১.০০ নাকি ভাবি রাসেল ভাইকে কল করে! রাসেল ভাই ভাবিকে জানায়; ডিবি তাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসবে, চিন্তার কোন কারণ নাই। আমাকে সারা রাত সেলের সামনে একটা কম্বলের উপর বসিয়ে রাখা হয়। রাত ৩.০০টার দিকে রাসেল ভাই ও বিপ্লব ভাইকে হ্যান্ডক্যাফ পরিয়ে বাসায় নিয়ে যায় এবং বাসা থেকে কম্পিউটার, মডেম নিয়ে আসে। সকাল বেলায় আমাদের জন্য যে জিনিস অপেক্ষা করছিল তার জন্য আমরা কেউ-ই প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা সকাল হওয়ার পরও কিছুই বুঝছিলাম না যে, আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি বা কেন-ই আমাদের বসিয়ে রাখা হল। সকাল এগারটার দিকে আমাদেরকে মিডিয়া সেলে নিয়ে যাওয়া হল। জনগণের সামনে আমাদের কম্পিউটার চোরের মতোন উপস্থাপনা করল। আমাদের কাছে সবচেয়ে বিব্রত বিষয় ছিল আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি!

ধর্মীয় উষ্কানিমূলক লেখার অভিযোগে তিন ব্লগার আটক !!!

আমরা প্রতিটি সময় ধর্মীয় উষ্কানি, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি কিন্তু আজ রাষ্ট্র-ই আমাদের সেই অভিযোগে আটক করেছে!!! এর থেকে বেদনার আর কী হতে পারে। তারপর আমাদের সিএমএম কোর্টে নেওয়া হয় এবং আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। সারা দিন না খাওয়া ছিলাম। আর ব্লগানোর জন্য এমন পরিস্থিতিতে কেউ পরতে পারে তা আমাদের ভাবনার বাহিরে ছিল। ঢাকা শহরে আমার তেমন কোন আপনজন নেই তার উপর আমার বাবা-মা ঢাকার তেমন কিছু চিনে না। তার উপর এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হল যে, সে সময় আমি নিজের ভাগ্যকে সময়ের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

পর্ব- ২

ব্লগ ও ব্লগার সর্ম্পকে বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের যা ধারণা, ডিবির ধারণাও তার থেকে উন্নত নয়। আমাদের রিমান্ডে আনায় মোটামুটি ডিবি অফিসে খুশির বাতাস বয়ে গেল। আমাকে আর বিপ্লব ভাইকে এক সেলে আর রাসেল ভাইকে অন্য একটা সেলে রাখা হয়। আমাদের সেলে প্রবেশ করার পর এক ডিবির লোক আমাদের উদ্দেশ্য করে উক্তি করে-এদের না খাইয়ে মেরে ফেলা উচিত!!! এছাড়াও আরো নানা রকম উক্তি শুনে বুঝতে পারছিলাম; সাধারণ জনগণ ও কাঠ মোল্লাদের সাথে এদের চিন্তায় ও ধ্যান-ধারণায় তেমন কোন তফাৎ নেই। সারা দিনের শ্রম ও না খাওয়ার কারণে আমরা দুই জনই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমরা সেলে প্রবেশ করার পর থেকে অনেকেই আমাদের নিয়ে কৌতুহলি হয়ে উঠে। তারা বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। আমরা এটা-সেটা বলে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা ততক্ষণে বুঝতে পারছিলাম সেলের সবাই বুঝে গেছে আমরা ব্লগার। একদিকে ঘুম পাচ্ছে অন্য দিকে রাসেল ভাই একা, ভাইয়ের জন্যও চিন্তা হচ্ছে। আমরা যে সেলে ছিলাম তাতে খুব বেশি হলে; স্বাভাবিক ভাবে ১২-১৫ জন থাকা যাবে। কিন্তু সেই সেলের লোক সংখ্যা ছিল ৪০ জন। বুঝতে পারছিলাম রাতে হয়তো জেগে থাকতে হবে কারণ ঘুমানোর কোন জায়গা নেই। কেউ জেগে গেলে তার জায়গাতে হয়তো ঘুমানোর সুযোগ হতে পারে। কারণ গত রাতেও দেখেছিলাম অনেকেই রাতে সেল-এ দাঁড়িয়ে থাকে। আমরা ডিবিকে যতটা না ভয় পেয়েছি তার থেকে অনেক ভয় পেয়েছি সেলের মানুষ গুলোকে। কারণ ওখানে আসিফ মহিউদ্দিনকে যারা কুপিয়েছে তারাও উপস্থিত ছিল। সুতরাং আমরা ডিবির হেফাজতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে রাসেল ভাইয়ের ক্ষেত্রে। রাসেল ভাই সেল-এ একা ছিলেন। যখন-ই সেল-এর মানুষ গুলো শুনল সে ব্লগার তখনই সবাই মিলে তাকে গালাগালি করা শুরু করে দিয়েছে। দুই জন ব্যক্তি রাগে কাঁপছিল কারণ তারা রাসেল ভাইকে মারতে পারছে না। ঐ সময়কার উপলব্ধি গুলো কখনোই অন্য কাউকে বোঝানো সম্ভব না। কতোটা বাজে পরিস্থিতি হলে ব্লগার শোনা মাত্র-ই মানুষ হত্যা করতে চায়, মারতে চায়। ব্লগার মানেই নাস্তিক। বা নাস্তিক মানেই ধর্মকে গালাগালি করা, এমন ভাবনা থেকেই এমন আচরণ। আমি আর বিপ্লব ভাই রাসেল ভাইকে নিয়ে এমন ভয়েই ছিলাম।। সব কিছু মিলিয়ে তখন মনে হচ্ছিল আমরা মনে হয় দান্তের নরকে আছি। তবে দাস্তের নরকে নিরপরাধ কেউ ছিল না কিন্তু ডিবির ঐ সেল-এর ভেতরের নরকটাতে অনেক মানুষ ছিল যারা শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে ২০-৩০ পর্যন্ত পঁচে গলে মরছে। আমরাও তাদের সাথে যোগ দিলাম। কয়েক ঘন্টা পর বিপ্লব ভাইকে সেল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি প্রায় ১.৩০ ঘন্টার মতন একা সেল-এ বসে ছিলাম। তখন নিজেকে যতটা অসহায় লাগছিল এমন অসহায়ত্ব কখনো ভর করেনি আমাকে। আমার সাথে কেউ একজন ছিল কিন্তু এখন আমি সর্ম্পূণ একা! পরে আমাকেও সেল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিস্তারিত জানতে পারলাম।

রাসেল ভাই সেলে থাকা অবস্থায় প্রেসার বেড়ে গিয়ে ঘাড় ফুলে যায় এবং তার সাথে সেল এর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা। এই বিবেচনায় রাসেল ভাইকে অন্য একটা রুমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু রাসেল ভাই ডিবি অফিসারকে আমাদের নিরাপত্তার খাতিরে যেন তার সাথে নিয়ে আসা হয় তার জন্য অনুরোধ করেন। তাই নিরাপত্তার খাতিরে ও রাসেল ভাইয়ের বারবার অনুরোধে আমাদের তিনজনকে এক রুমে রাখা হয়। তিনজন এক সাথে মিলিত হয়েছি তাই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পেরেছি। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় না হয় নাই বললাম শুধু এতোটুকুই বলি; আমাদের ফেসবুক ও ব্লগের সকল পাসওয়ার্ড তারা নিয়ে নেয় যা আইনত বেআইনি, অপরাধ না করে যে শাস্তিটুকু আমরা পেলাম তা আমাদের জন্য কাম্য ছিল না। যতোটা পারা যায় ততটাই মানসিক ভাবে আমাদের ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। নাস্তিক মানে বিকৃত, ঘৃণ্য, কদাকার কোন মানুষ হয় এমনই ছিল তাদের ধারনা। কিন্তু কয়েকদিন আমাদের সাথে কথাবার্তা বলার পর তাদের অনেকের মধ্যে পরিবর্তন আসে। নাস্তিক বিকৃত রুচির মানুষ নয় তা তারা বুঝতে পারে। কারণ প্রথম দিকে তারা আমাদের সাথে যতোটা নেগেটিভ ছিল পরবর্তিতে অনেকটাই পজেটিভ আচরণ করে। একটা তথ্য দিয়ে রাখি, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় লেখা কোথায় লুকিয়ে রাখসি তা বের করার জন্য সেসময় ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর  রহমান ক্রসফায়ার এর হুমকি দেয়।

পর্ব-৩

১০ তারিখ আমাদের কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে তাই আমরা আশা করেছিলাম দশ তারিখে আমাদের জামিন হয়ে যাবে। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় হেফাজত নামক শুয়র দলটির বর্বর ১৩ দফা শুনেছিলাম। ১৩ দফা শুনে মনে হল আমরা কী বাংলাদেশে আছি নাকি বাঙলাস্তানে আছি? সবার খুব উত্তেজিত ছিলাম ১০ তারিখ জামিন হলে হেফাজতকে নিয়ে লেখা শুরু করে দেব কিন্তু ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাস ১০ এপ্রিল আমাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আমাদের তিন জনের সাথে যোগ হয় আসিফ ভাই। ১০ এপ্রিল ছিল রাসেল ভাই জন্মদিন। সবাই আশা করেছিলাম; জামিন হলে ঘটা করে রাসেল ভাইয়ের জন্মদিন পালন করব। জন্মদিন আমাদের কারাগারেই উদযাপন করতে হয়। সকল নিয়ম-নীতি শেষ করে রাত প্রায় ৯টার দিকে কারাগারের ১৪ নাম্বার সেলের ১০ নাম্বার রুমে যাওয়ার সাথে সাথে সেলে থাকা অজস্র মানুষ হিংস্র জন্তুর মতন আমাদেরকে গালা গালি শুরু করে। এমন নোংরা ভাষার গালি আমরা জীবনে শুনিনি। তারা গালি দিয়ে একটা একটা বিকৃত আনন্দ পাচ্ছে তা সহজে বুঝতে পারছিলাম। আমরা ব্লগার তাই আমাদের গালি দেওয়া তাদের অধিকার। আমাদের আগামী কাল সকালে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিতে থাকে। এর পাল্টা জবাবে আমরা কিছুই বলিনি। আমি রাসেল ভাইকে শুধু বললাম; মানুষকে নৈতিক শিক্ষা ও সভ্য করে তোলার জন্য শুধু ধর্মের পাশাপাশি আরো কিছু যে দরকার হয় তা এদের দেখে প্রমাণিত হয়। রাতে আমাদের পাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অজস্র গালাগালির পর হিংস্র জন্তুরা এক সময় কান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। কিন্তু আমার আর রাসেল ভাইয়ের চোখে ঘুম নেই কারণ দুই জনের-ই প্রচণ্ড খিদা ছিল। একজন কারারক্ষীকে বলে কিছু ভাত ও মরিচ- পেঁয়াজ সংগ্রহ করি। ভাতে পানি দিয়ে লবন, পেঁয়াজ ও মরিচ দিয়ে এক প্লেটেই খাওয়া শুরু করি আমি ও রাসেল ভাই। বিপ্লব ভাই আর আসিফ ভাই দেখি ঘুমিয়ে পড়েছে। একজনের সেলে আমরা চারজন কোন রকম দিনপার করতে থাকি।

আমরা যেহেতু সবারই শত্রু এবং আমাদের নিরাপত্ত যেহেতু খুব-ই জরুরী ছিল তাই আমাদের দশ নাম্বার সেলে; আমাদের সাথে কথা বলা ও আমরা যেন অন্য কারো সাথে কথা না বলি তা জেল কর্তৃপক্ষ বলে দেয়। তাই বেশির ভাগ সময় সেলের রুমেই আমাদের সময় কাটাতে হতো। জামিনের জন্য আমরা প্রায় সবাই অস্থির হয়ে উঠি। রাসেল ভাইয়ের সাথে কেউ দেখা করতে আসলে রাসেল ভাই শুধু একটা কথাই বলত- পিচ্চিকে তারাতারি বের করে নাও। রাসেল ভাই আমাকে পিচ্চি ডাকত। অবশ্য আমি সব দিক থেকে রাসেল ভাই অপেক্ষায় পিচ্চি। কারণ রাসেল ভাই বাঙলা ব্লগের প্রথম দিককার ব্লগার। যখন তিনি ব্লগে চার ছয় হাকাতেন তখন আমি একরান নিতেই হাঁপিয়ে উঠতাম। আর জ্ঞান ও চেতনায় এতো বেশি স্পষ্ট ও চিন্তাশীল তার তুলনায় আমাকে পিচ্চি না আরো কম কিছু বলা যেতে পারে। রাসেল ভাইয়ের শুধু একটাই কথা- পিচ্চিকে বের কর সবার আগে, ও পরীক্ষা আছে সামনে, ওর এখনো পড়ালেখা শেষ হয় নাই; ওকেই বের কর সবার আগে। এই মানুষটার দুইটা বাচ্চা আছে কিন্তু তিনি নিজে বের না হয়ে আমাকেই বের করতে বলতেন সবসময়। আমারা সৌভাগ্য আমি রাসেল ভাইয়ের সাথে ছিলাম। জানি না তিনি না থাকলে আমার কী অবস্থা হতো। কারণ ঢাকায় মোটামুটি আমি একাই একজন মানুষ বলা যেতে পারে। আমার জন্য কাজ করে যাচ্ছিল শুধু ক্যামেলিয়া। সেও অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। তবুও সারাদিন আমার জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে পাগলের মতন দৌড়াচ্ছিল। যেহেতু বয়স আমাদের বেশি না, কাউকে তেমনভাবে চিনি না তাই অনেক কিছুই ক্যামেলিয়া বুঝত না। উকিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছুতে লিপি ভাবি তাকে সাহায্য করে গেছেন। তাই বন্দি অবস্থায় রাসেল ভাই ছিলেন আমার ছায়া হয়ে। আর ঐ ছায়ার তলেই আমি দিন পার করছিলাম। লিপি ভাবি আর রাসেল ভাই আমার জন্য যা করলেন তা আমার কোন আপনজন করেনি।

১৪ এপ্রিল জনকণ্ঠে আমাদের নিরাপত্তা বিষয়ে রির্পোট হওয়ার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় আরেক সেলে, শাপলা ২; প্রথমে আমাদের চারজনকে একই সেলে রাখার সিন্ধান্ত হয় কিন্তু সেল এতো ছোট যে, ওখানে দুই জনের বেশি কোন ভাবেই থাকা সম্ভব না। আমরা তাদের বলি আমাদের আগের সেলেই পাঠানো হোক কারণ ঐ সেলে কোন রকম চারজন শুধু ঘুমাতে পারতাম কিন্তু এই সেলে চারজন বসারও জায়গা নেই। পরে তারা আমাদের চারজনের জন্য দুইটি সেলের ব্যবস্থা করে দেয়। আমি আর রাসেলে ভাই এক সেলে আর আসিফ ভাই ও বিপ্লব ভাই আরেক সেলে থাকা শুরু করে। পহেলা বৈশাখে আমাদেরকে আমাদের পরিবারের কারো সাথেই দেখা করতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

পর্ব-৪

শাপলা সেল-এ আমরা দিন অতিবাহিত করতে থাকি। বলা যায় জামিন পাওয়ার আশা আমরা বাদ দিয়ে দিই। কারাগারে থাকা অবস্থায় সবাই কম-বেশি অসুন্থ হয়ে পড়ি। আসিফ ভাই ঘাড়ের ব্যথার জন্য একটি বালিশ ম্যানেজ করতে চার দিন ব্যয় করতে হয়েছে। আমার এবং রাসেল ভাই প্রেশার, শরীরের দূর্বলতা ও কিডনির সমস্যায় ভুগতে থাকি। আর বিপ্লব ভাই তো ডিবি অফিস থেকেই অসুস্থ। সারা দিন বিপ্লব ভাই শুয়ে থাকতেন। আমরা কারাগারে কারা কর্তৃপক্ষের একপ্রকার মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়াই। কারণ আমাদের নিরাপত্তার জন্য তাদের সবসময় আমাদের আশেপাশে থাকতে হতো। অবশেষে আমাদের বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের প্রিজন সেলে পাঠান হয়। কারা কর্তৃপক্ষ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। ডাক্তারদের সহায়তায় কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠি। ৭ মে আমার জন্ম দিন ছিল। মজার ব্যাপার হল বিপ্লব ভাই জন্মদিন ডিবি অফিসে রিমান্ড অবস্থায় ছিল, রাসেল ভাই জন্মদিনের দিন আমরা কারাগারে আসি আর আমার জন্ম দিন কাটে হাসপাতালের বিছানায়। অতঃপর ১২ মে আমার আর রাসেল ভাই জামিন হয়। হাসপাতালে আসার সুবাধে আমরা বই পড়ার সুযোগটুকু পেলাম।

পর্ব-৫

আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- আমরা সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দিয়েছি। যা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর। একজন ব্যক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে কী করে না তা রাষ্ট্রের কাছে কখনো গুরুত্বর্পূণ না। কারণ ধর্ম একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা অবিশ্বাসী এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ। ডিবি অফিসে রাসেল ভাইয়ের একটা কথা খুব ভাল লাগছে। কথাটা ছিল- সরকারের প্রথম আসামী নাস্তিক তবে সে দেশ প্রেমিক কিন্তু যে দিন শেষ কোন ব্লগার ধরা হবে সে হবে আস্তিক তবে সেও হবে দেশ প্রেমিক! আমি দেশ প্রেমিক কিনা জানি না তবে রাসেল ভাই দেশ প্রেমিক তা জানি কারণ সে দেশে থাকার জন্যই আমেরিকা থেকে বাঙলাদেশে চলে আসে। আর এমনই একজন মানুষের জীবনে এমন নির্মম বাস্তবতা নেমে আসে তা সত্যি দুঃখজনক। প্রতিনিয়ত নিজেকে অপরাধী মনে হতো কারণ নিজের কারণে পরিবারের মানুষের জীবন ঝুকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছি, আমার কারণে কিছু প্রিয় মানুষ দিনের পর দিন এক দরজা থেকে আরেক দরজায় দৌড়াচ্ছে। মানসিক ভাবে এতোটাই ভেয়ে পড়েছিলাম যে কারো সাথে দেখা করতেও ইচ্ছে হতো না। বাবা, মা কে ঢাকায় আসতে নিষেধ করে দিয়েছি কারণ তারা আমার এই অবস্থা সহ্য করতে পারবে না। ক্যামেলিয়া প্রতিদিন দেখা করার জন্য আসত। টাকা দিয়ে হোক বা যেভাবেই হোক সে একবার দেখা করতে চাইত। কিন্তু সপ্তাহে এক দুইবারের বেশি দেখা করা সম্ভব ছিল না। তবে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মাঝেও বেঁচে ছিলাম কারণ প্রতিনিয়ত শুনতাম কিছু মানুষ আমাদের জন্য লিখে যাচ্ছে, আন্দোলন করে যাচ্ছে। হয়তো তেমন কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না তবুও এতো গুলো মানুষ আমাদের সাথে আছে এতেই অনেক সাহস পেতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন, মিডিয়া, দেশে ও দেশের বাহিরের ব্লগার ও বড় ভাইয়া প্রতি নিয়ত লিখে যাচ্ছেন কিন্তু করার চেষ্টা করছেন এর থেকে আর বড় পাওয়া কী হতে পারে। যখন শুনতাম কেউ আমাদের জন্য লিখে যাচ্ছে তখন মনটা অনেক ভাল হয়ে যেত কারণ আমরা একা না। অনলাইন পরিবার আমাদের সাথে আছে যা আমাদের অনেক সাহস দিত, মন ভাল করে দিত। কারাগারে থাকা অবস্থায় দৈনিক জনকণ্ঠে একটা লেখা ছাপা হয় নিঃসঙ্গ ক্যামেলিয়ার শাড়ি পরা হয়নি পহেলা বৈশাখে ব্লগার বন্ধুকে মুক্ত করার লড়াই নামে। পত্রিকা যেহেতু পেতাম না সেহেতু এই লেখা পড়া হয় নি। কিন্তু ঐ দিনই কারাগারের এক বয়ষ্ক লোক আমাকে ডেকে বলে; তুমি শুভ না? তোমাকে নিয়ে একটা লেখা পড়লাম। পড়ার পর চোখে পানি ধরে রাখতে পারি নি, দাঁড়াও লেখাটা তোমাকে দেখাচ্ছি। এই বলে তিনি পত্রিকা খুঁজতে চলে গেলেন কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরলেন কারণ তিনি জনকণ্ঠ পাননি কোথাও। কিন্তু বিকালের দিকে কারাগারে বন্দি এক মেজর পত্রিকাটা আমার জন্য পাঠায়। সমগ্র লেখাটা পড়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল কারণ আমার ভেতরে সবকিছু চুরমার হয়ে যাচ্ছিল তখন। তবুও মনটা ভাল হল; আমরা একা না আমরা এখনো হেরে যাইনি। এভাবে হাজার হাজার মানুষকে যে সাথে পাব তা কখনো ভাবি নি। কখনো ভাবি নি অনলাইন পরিবার এভাবে পাশে এসে দাঁড়াবে। অনেক হয়তো কষ্ঠ সহ্য করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হয়তো শেষ করতে পারিনি কিন্তু তারপরও যা পেয়েছি যা দেখেছি তার মূল্য কোন অংশে কম না। কারাগারে থাকা অবস্থায় অনেকেই বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে চেয়েছে এমন কী এও শুনলাম এক গর্ভবতী মা তার সন্তানের নাম “শুভ” রাখবে। কথাটা শুনে এর বিপরীতে কী বলব আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

জেল থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ম্যাডাম বলছিলেন; শুভ তুমি অনেক কম বয়সে অনেক কষ্ট করেছ আমরা কিছুই করতে পারি নি তোমার জন্য। তুমি আমাদের ক্ষমা কর। লজ্জার কারণে ম্যাডামকে বলতে পারি নি; আমি এতো কম বয়সে অনেক কষ্ট হয়তো ভোগ করেছি এটা সত্য কিন্তু এতো কম বয়সে এতো ভালোবাসা কয় জনে পায়! এতো খারাপের মাঝেও বেঁচে ছিলাম কারণ অনলাইন ও অফলাইন পরিবার আমাদের সাথে ছিল। এটাই ছিল আমাদের মানসিক ভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ডাক্তার আইজুর একটা লেখা আছে-সুব্রত শুভর মামলা-মাননীয় হাইকোর্ট আমি পুরাই হয়ে গেলাম নামে। ব্লগারদের নিয়ে অভিজিৎ দার আমাদের এ লজ্জা কোথায় রাখি? এছাড়াও অনেক লেখা হয়তো আছে যেহেতু অনলাইনে ছিলাম না সেহেতু অনেক লেখাই দেখতে পাই নি। যারা লেখা গুলো লিখেছেন তাদের কাছে হয়তো লেখাগুলোর গুরুত্ব সামান্যই কিন্তু আমাদের কাছে বিশেষ করে আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। কারণ কারো সাথে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করতাম কেউ কিছু লিখছে না? কারণ কেউ কিছু লিখলেই বুঝতাম আমরা একা না। আমরা একটা পরিবার যারা বিপদে-আপদে সব সময় এগিয়ে আসে। অনলাইন এ ব্লগাররা এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে এর থেকে বড় চাওয়া আর কী হতে পারে। জামিনে মুক্ত হয়ে রাসেল ভাইয়ের এই লেখাটি পড়ে চুপ হয়ে অনেকক্ষণ বসে রইলাম–আমাদের গল্প । সময়টা আজ অতীত। সেই অতীতের যন্ত্রনা, মানসিক কষ্ট হয়তো আগের মতন নেই কিন্তু মামলার হাজিরা আজো আমাদের দিয়ে যেতে হচ্ছে। সেই অতীতের ঘটনাগুলো ভোলার মতন নয়।

কয়েকজন মানুষের কথা উল্লেখ না করলেই নয় যারা আইনি সহায়তা করেছেন-ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও অন্যরা। এছাড়া অসংখ্য মানুষ আছেন যারা পেছনে থেকে আমাদের সাথে ছিলেন। পরিস্থিতির কারণে তাদের নাম এখন আপাদত প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। তবে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

গত বছরের রাজনৈতিক ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু কথা না বলে পারছি না। মানুষ বিভিন্ন ভাবনায় বিভিন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। মানুষের দর্শন, একে অপরের প্রতিশ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে মানুষ সহনশীলতার চর্চা করে। এই দেশ ইউরোপ আমেরিকার মতন উন্নত কিংবা শিক্ষিত না। আমেরিকায় এন্টিক্রুসেড ছবি রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখে সেই চিন্তা করে যদি এই দেশেও করতে যাই তাহলে তা হিতে বিপরীত হবে। কারণ আমেরিকার সোসাইটি আর এই বাঙলার সোসাইটি এক নয়। মানুষের অনুভূতিকে বিকৃত কিংবা কুৎসিত ভাবে উপন্থাপন করে কখনো নিজের মতবাদে আনা সম্ভব না। বিকৃত কিংবা কুৎসিতভাবে উপস্থাপনায় ঘৃণা জন্ম নেয় ভালোবাসা জন্ম নেয় না। আমাদের দেশে ধর্মের সমালোচনা কিংবা ধর্মের বিপক্ষে বই তো প্রকাশিত হয়। কিন্তু উপস্থাপনার ধরণ যদি সুস্থ হয় তাহলে তেমন কোন বড় বাধা হয়তো আসে না। কোন মানুষ ধার্মীক কিংবা ঈশ্বরে বিশ্বাসী হলেই যে তিনি গোড়া হবেন তা তো নয়। ব্যক্তিজীবনে কে ধার্মীক আর কে ঈশ্বরে বিশ্বাসী তা আসলে গুরুত্বর্পূণ না বরং তিনি কতোটুকু সহনশীল অথবা কতোটুকু উদার সেটাই গুরুত্বর্পূণ। আমার বাবা-মা বিশ্বাসী মানুষ তারপরও আমার আর ক্যামেলিয়ার সর্ম্পক মেনে নিয়েছেন। জেল থেকে বের হয়ে আমার যে বন্ধুটির বাসায় থেকেছি তার পুরো পরিবার বিশ্বাসী। অথচ তারা কখনো আমাকে কোন কথা বলেননি কিংবা বুঝাতে আসেননি। আমি বলছি না আমাদের সমাজে মৌলবাদ নেই অথবা ধর্মের সুস্থ সমালোচনা করলে তেমন কোন বাঁধার সম্মুখিন হতে হয় না। যেখানে আমাদের সমাজ এতো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল সেখানে সহনশীলতা ও সুস্থ চর্চার মধ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমার কোন লেখায় যেন অন্য কোন মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি না হয় সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে। মাটি ও মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আনতে চাইলে তাদেরকে সঙ্গে নিতে হবে। মানুষকে দূরে সরিয়ে রেখে অথবা তাদেরকে নীচ জ্ঞান করে দূরে সরিয়ে রেখে কখনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। অনেকে হয়তো ভাবছেন আমি জ্ঞান দিচ্ছি। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই আমি কোন জ্ঞান দিচ্ছি না। আমি আমার নিজস্ব ভাবনাটুকু বললাম। শিক্ষার মান উন্নত না করে, মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি না হলে সমাজে পজেটিভ পরিবর্তন সম্ভব নয়। যার পেটে ভাত নেই সেই মানুষটি কাছে আস্তিক নাস্তিক কোন বিষয় ঠাঁই পায় না। অনেকে শুধু ঈশ্বরে বিশ্বাসী কিন্তু ব্যক্তিজীবনে ধর্ম তেমন ভাবে পালন করেন না। নিজেদের লাগামহীন সমালোচনার কারণে কোন ঈশ্বরে বিশ্বাসী যেন মৌলবাদীতে পরিণত না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত নাস্তিক্যবাদীতা সাধারণ মানুষকে মৌলবাদের দিকে ঠেলে দেয়। অনলাইনের এই বিষয়টা খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেকে হয়তো ভাবেন, নাস্তিকদের একহাত দিয়ে দিচ্ছি! আমার ভাবনাটুকু হল- প্রতিক্রিয়াশীল সমাজে পরিবর্তন যেহেতু আমরা চাচ্ছি সেহেতু সহনশীলতা ও সুস্থ সমালোচনার দায় সবার আগে আমাদের।

এই লেখাটি অনেকদিন আগের লেখা আজকে পোস্ট করার পূর্বে জানতে পারলাম চট্টগ্রামে দুইজন ব্লগার-ফেসবুকারকে আটক করা হয়েছে। জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে ও নাস্তিকতার বিষয়ক লেখার কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গদেশের রঙ্গ আইনের বিরুদ্ধে বাঘা আইনজীবীদের নীরবতা বেশ রহস্যজনক। টক শোগুলোতে হাজারো জিনিস নিয়ে প্যাচাল মারলেও এই আইন সর্ম্পকে সবাই কেমন যেন নীরব। এই আইন যে উদ্দেশ্যে করা হোক না কেন এই আইনের মাধ্যমে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হবে সাধারণ জনগণ। আর কোন কিছু ভাবতে পারছি না, আর কোন কিছু বুঝতে চাই না। শুধু জেলের ভেতরে ছেলেগুলো কেমন আছে তাই ভাবছি। ‘ছেলেগুলোর মুক্তি চাই’ এই কথাটি ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।

One comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.