মাওলানা আজিজুল হক জানাজা পড়িয়ে অর্থ নিয়েছিলেন!

মাঝরাতে ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীবের একটা বই খুঁজে পেলাম। তোয়াহা বিন হাবীব ছিলেন পাকিস্তানপন্থী ধনী রাজনীতিবিদ। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলীয় ঐক্য জোটেরও জয়েন্ট সেক্রেটারী ছিলেন। ছিলেন মুসলিম লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারীও। যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব সংক্ষেপে হোয়াহা বিন হাবিব। এই লোককে নিয়ে গুগলে তেমন কোন তথ্য খুঁজে পেলাম না। তার বই- এ হ’লো ইসলাম বইতেও লেখক পরিচিতি নেই। স্বাধীনতার পর তোয়াহা কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দলের সদস্য হন।

হেফাজত ইসলামের নেতা মামুনুল হকের পিতা আজিজুল হকের দেওয়া মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পত্রিকার ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
সাক্ষাৎকারে আজিজুল হক বলেছিলেন, “৭১-এ আমগো অবস্থান ছিল নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে”।

“আমার দেখা এদের সর্বশেষ একটি ঘটনা না বললে মনে হয় আল্লাহর কাছে অপরাধী হবো, তাই ঘটনাটি অত্যন্ত ঘৃণার হওয়া সত্ত্বেও তা উল্লেখ না করে পারছিনা। পূর্বে এক প্রসঙ্গে মরহুম হাফেজ আব্দুর রউফ সম্পর্কে উল্লেখ করেছি। বাইতুল মুকাররাম মসজিদের উত্তর গেইটের পূর্ব পার্শ্বের নূরানী আতরের দোকানের মালিক ছিলো আব্দুর রউফ। লালবাগ মাদ্রাসার ছাত্র। সে সূত্রে মাওলানা আযীযূল হক তার ওস্তাদসম। লোকটি অনেক দিন ক্যানসারে ভুগে মারা গিয়েছে। আমার সাথে তার অন্তরের সম্পর্ক ছিলো বলে আমৃত্যু তাকে আমি দেখতে যেতাম। একবার কথায় কথায় বলছিলো যে তার মৃত্যু হলে আমি যেনো তার জানাযা পড়ি। আমি বলছিলাম যে তার বড়ো ছেলে যেহেতু যোগ্য এবং নেক, তাই তার দ্বারাই তার জানাযা হওয়া শ্রেয়। হাফেজ আব্দুর রউফের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমার ছেলে মুহাম্মাদকে নিয়ে তার জানাযায় শরিক হতে গিয়েছিলাম। মুহাম্মাদকে সে এতোই ভালোবাসতো যে আমি তার জানাযা ও দাফনে পর্যন্ত মুহাম্মাদকে সঙ্গে নেয়া কর্তব্য মনে করেছি। জানাযার পূর্বক্ষণে মাওলানা শেখুল হাদীস আযীযুল হক এসে উপস্থিত। আব্দুর রউফের ছেলেরা তাদের বাবার উস্তাদ এসেছে দেখে স্বাভাবিক ভাবেই তাকে দিয়ে জানাযা পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্বে কথা হয়েছে যে ছেলেই জানাযা পড়াবে। আযীযুল হক আসবে জানলে আমি শুধু আব্দুর রউফের লাশ দেখেই চলে আসতাম, জানাযার জন্য অপেক্ষা করতাম না। মাওলানা এলে তাকে দিয়েই জানাযা হলো। জানাযার পর পাঁচশটি টাকা দেয়া হলে আযীযুল হক সে টাকা নিয়ে চলে এলো। এ ঘটনাটি আমি নিজে না দেখলে কেউ বললে আমার পক্ষে তা বিশ্বাস করা কঠিন হতো। এতো মুর্দার জানাযা, তারপর ছাত্রের জানাযা! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! এরা মানুষ? এরা আলেম! এরা শেখুল হাদীস?! ধিক এদের পিতা মাতার, যারা এদের ধরার পৃষ্ঠে এনেছে! ধিক এদের ধর্মের উপর! শত ধিক এদের ধর্মবেচার পেশার উপর।

ঘটনাটি স্মরণ হতেই আমি চোখ বন্ধ করলে দেখি যে আযীযুল হক একটি মুর্দাখোর শকুন অথবা কুকুর হিসাবে যেনো আব্দুর রউফের মৃত দেহের এক খাল্লা পচা মাংস মুখে করে নিয়ে যাচ্ছে! এরা মানুষ হলে ধরায় পশু কারা! ইসলামে শিক্ষা হলো, কেউ মারা গেলো জানাযা পড়ে তাকে দাফন করো। তিন দিন পর্যন্ত খানা পাকিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য পাঠাও। তা পালনে আমি এক দিন খানা পাকিয়ে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। আর এ উস্তাদজী! মুর্দার গোস্ত খেলো?! হাফেজ্জীর ছেলে জামাইরা ইরানীদের পয়সা মাতৃস্তনের মতো নিঃসংকোচে খেয়েছে। তার ছোটো ছেলে আতাউল্লাহ তার বাপের নামে মাদ্রাসাকে দেয়া নবাবপুরের একটি বাড়ি বাপের সই জাল করে তা এক কোটি টাকার উর্ধ্বে বিক্রি করে সবটাকা আত্মসাত করে কামরাঙ্গীর চরে ফ্লাড লেভেলের উর্ধে আট-দশ ফিট উচু পিরামিড তৈরী করে বাড়ি করেছে। পরে মাদ্রাসার বাড়ি বিক্রির জন্য ধরা হলে সে কামরাঙ্গীর চর ছেড়ে বারিধারা না গুলশানে পালিয়েছে। আরেক বুজুর্গ পীরজ্বী হুজুর। সব জ্বী আর হুজুর। তার স্ত্রীও আমার মায়ের চাচাতো বোন, যেমন হাফেজ্জীর স্ত্রী আমার মায়ের ফুফাতো বোন। পীরজীর মুখে ইনস্যুরেন্সের চাকুরী শূয়োরের মতো হারাম শুনে আমার এক বন্ধু জেনারেল মুযাম্মিল ও ব্রিগেডিয়ার ইউনুস দেওয়ানের সম্বন্ধি সালাহুদ্দিন বিরাট বীমা কোম্পানীর চাকুরী ছেড়ে ঘরে বসে গিয়েছিলো। কিন্তু সালাহুদ্দীন সাহেবের বীমা কোম্পানীর লোকেরা মিষ্টি নিয়ে পীরজীর কাছে উপস্থিত হয়ে মুসাফাহা করে টাকা দিলে তা সে গ্রহণ করে। তাদের বিগ বস পীরজীর কথায় শূয়রসম বীমার চাকুরী ছাড়লেও হুজুর বীমা কোম্পানীর লোকদের মিষ্টি ও টাকা কিরূপে গ্রহণ করে জিজ্ঞাসা করলে পীরজী নাকি বলেছে যে, যাদের নসীব ভালো তারা তাদের কথা শুনে শূয়র খাওয়া থেকে মুক্ত হয়ে যাবে, এবং পীরজীরা শূয়র খেয়ে বাঁচবে। শূয়রভূকরা মরলে কোথা যাবে, এ কথাটি তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেছে কিনা, করলে কি উত্তর হতো তা জানা যায়নি। পীরজীর মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার বরকতের নিয়াতে হুজুরের নামে হাউজিং এর একটি প্লটের দরখাস্ত করলে লটারীতে বেচারার ভাগ্যে প্লট উঠলে হুজুরের লোভ লেগে যায় প্লটের উপর। আর যায় কোথায়! হুজুর তা নিয়ে বিবির নামে হস্তান্তর করে দেয়। বিবি বড়োছেলেকে সে প্লটটি দান করলে তিন ছেলের মধ্যে ভাই-ভাই মামলা মুকাদ্দিমা ও কোর্ট কাচারী আরম্ভ করে দেয়। এক পর্যায়ে আমার কাছে এসে তারা সালিসী করে মিটমাটের কথা বলে। আমি সব শুনে বললাম যে তোমাদের সালিসী আমি করতে পারবো না। কারণ, যাদের অবৈধ পয়সা খেয়ে তোমাদের জন্ম, তোমরা তাদের সন্তান। তারাই তোমাদের মিটমাট করতে পারবে। ইসলামে উপরে তাওহীদ এবং নীচে হালাল দিয়ে মু’মিনের অবস্থান তৈরি হয়। নবী রাসূলদের ব্যাপারেও সে এক কথা। তা না হলে, নামের সাথে যতো হুজুর, পীর, শেখ ও হযরতত্ত্বী লাগানো হোক, সব জাহান্নামের চর্বিদার মোটাশূকর। মুয়াবিয়া, ইয়াযীদদের দামেশক ও স্পেনে রাজপ্রাসাদ ও দুর্গ, আব্বাস ও ইব্‌ন আব্বাসদের বাগদাদের দজলা, ফোরাত পাড়ের প্রমোদ বিহার ও মুঘল পাঠানদের দিল্লী আগ্রার সিংহাসন ও লাল কিল্লার মহাপাপের ধ্বংসস্তূপ আমাদের কোনো শিক্ষা দেয়নি বলে জন্ম নিয়েছে লালবাগ ও কাটরার কিল্লার ধ্বংসস্তুপের হুতুম পেঁচা, হুজুর ও হযরতজীদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-পোতারা। এ পেঁচাদের তাড়িয়ে তাওহীদ ও কালেমায়ে তাইয়্যেবার আযান না দিলে পুরাদেশ হুতুম পেঁচায় ডাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। হালালভোগী পিতা যেমন হালালজাদা জন্ম দেয়, তেমনি হারামভোগী হারামদাজা জন্ম দেয়। ঠিক তদ্রুপ হালালভোগী শাসক, হালালভোগী সরকার জন্ম দেয়। মিথ্যা ও হারামখোর ধার্মিকরা সমাজে হারামখোর লুটেরা শাসকের লুটপাটের পক্ষে ফতোয়া প্রদানকারী মানুষরূপী শয়তান। হারামভোগী ধর্মবেসাতীদের উৎখাত করতেই ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ, মূসা কালিমুল্লাহ, ঈসা রূহুল্লাহ ও শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এসেছেন। তাঁদের দ্বারা সে যুগে নমরুদ ফিরআউনদের যে ভাবে উৎখাত করেছেন আল্লাহ্, এ যুগের নব্য ফিরআউনদের নবীদের সে আদর্শেই উৎখাত করে মানবজাতির মুক্তি আনতে হবে। সে যুগের নমরুদ ফিরআউনদের হারামখোর দরবারী আলেম ও খতীবরা যে স্বার্থে সত্যের সৈনিকদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছে, এখনকার খতীব ও মোল্লারা ঠিক একই স্বার্থে ফতোয়া বেচাকিনি করবে। তাই বিশ্বের নব্বইভাগ জনসংখ্যা মুস্তাদআফদের মুক্ত করার জন্য মুস্তাকবিরদের দান ও ভিক্ষাখোর ও মোট জনসংখ্যার শতকরা এক দেড়ভাগ আহ্বার ও রোহবানদের চিহ্নিত করে নির্মূল করে নবী রাসূলদের সাচ্চা অনুসারী আলেমদের ময়দানে নামতে হবে। তাই মুর্দাখোর ও আল্লাহ্র ভাষার হারামখোরদের চিহ্নিত করতেই হবে। “এ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় বর্তমানে না বুঝে অসতর্কতায় হারামখোরীতে লিপ্ত বহু সংখ্যক আলেম তওবা করে নায়েবে রাসূল ও নবীদের ওয়ারিশ বেরিয়ে পড়ার “

[এ হ‌’লো ইসলাম-ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব, পৃ. ৩৬৯]

আজিজুল হকের একটি ভিডিও আছে, যেখানে মাহফিলে তিনি বর্ণনা করছেন তার পিতার কেমন অর্থাভাব ছিল। অথচ তার পুত্র মামুনুল হক ওয়াজ মাহফিলে দাবী করছেন তার দাদা নাকি বিশাল ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। আর তিনি নাকি তার সন্তান আজিজুল হককে পড়ার জন্য বিশাল অংকের অর্থ পাঠাতেন। ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিজের পরিবার নিয়ে কীভাবে মিথ্যাচার করেন তার একটা দলিল হয়ে থাকবে এই ভিডিও। দাদা গরীব ছিলেন এটি স্বীকার করে নিতে সম্ভবত কষ্ট পান বর্তমানে কোটিপতি মামুনুল হকের মতন আলেমরা। মিথ্যাচার করার প্রমাণ এখানে লিংক- https://www.facebook.com/shah.razi.399/videos/793511692205580/

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.