যে কারণে কবি হুমায়ুন কবিরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল সিরাজ সিকদার

শেখ মুজিবের আমলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্রসফায়ারে সিরাজ সিকদার যদি খুন না হতেন তাহলে নিশ্চিতভাবে হয়তো নিজের পার্টির কর্মীদের হাতে তিনি নিহত হতেন। এই ক্ষেত্রে শেখ মুজিবের আমলে খুন হওয়ায় বর্তমানে সিরাজ সিকদারের যে ভিকটিম ইমেজ দাঁড়িয়েছে তা আর গড়ে উঠত না। সিরাজ সিকদারকে তার পার্টির লোকেরাই চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। সিরাজ সিকদার নিজের পার্টি স্বৈরতান্ত্রিক পথে পরিচালনা করতেন। শ্রমিক শ্রেণির একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। আর যারা তার সিদ্ধান্ত ও চিন্তার সাথে দ্বিমত কিংবা অমত করতেন তাদের তিনি ষড়যন্ত্রকারী, বুর্জোয়া, সুবিধাবাদী ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করতেন এবং অনেককে খুন করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও কবি হুমায়ুন কবির ও ভগ্নীপতি ফজলুকে সিরাজ সিকদারের হুকুমেই খুন করা হয়। ফজলুল কবির এক সময় সিরাজ সিকদারের বিহারে আরেকটি দল গঠনের চিন্তা করেন। আর এতে সহযোগিতা করেছিলেন হুমায়ুন কবির। সিরাজ সিকদারের দল ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রী ফনী ভূষণ মজুমদারের সাথেও হুমায়ুন কবির যোগাযোগ করেন। ফলে সিরাজ সিকদার পার্টি এদের নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেন। এমনকি সিরাজ সিকদারের দল ত্যাগ করা কবি হুমায়ূন কবিরের বোনও এই হত্যার লিস্টে ছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের মতের সাথে একমত না হওয়ায় পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে খুন হওয়া কর্মীকেও মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দেননি সিরাজ সিকদার। সর্বহারা পার্টিতে তার প্রভাব এমন ছিল যে, দলের কর্মীরা বিয়ে করতে চাইলেও সিরাজ সিকদারের অনুমতি নিতে হত। যৌবনের ফ্যান্টাসি ও শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতার কল্পনার চাদর সরিয়ে আমরা যদি সিরাজ সিকদার ও তার সর্বহারা পার্টিকে মূল্যায়ন করি তাহলে দেখতে পাব তারা ছিল এমন এক দল; যারা সামান্য মতপার্থক্যের কারণে নিজের দলের একটিভ কিংবা সাবেক কর্মীদের মৃত্যু পারোয়ানা ঘোষণা করতে কুণ্ঠাবোধ করত না। ফলে সিরাজ সিকদার বেঁচে থাকা অবস্থায় সর্বহারা পার্টিতে কোন্দল ও উপদল ছিল নিয়তি। আর সিরাজ সিকদার খুন হওয়ার পর সর্বহারা পার্টি মূলত বিভিন্ন জেলায় ডাকাত দলে রূপ নেয়। আর এভাবেই সমাজে জনবিচ্ছিন্ন কিন্তু শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখা একটি গ্রুপের পতন হয়।

হুমায়ুন কবিরের বন্ধু ছিলেন কবি ও ভাবুক ফরহাদ মজহার। হুমায়ুন কবিরের খুন হওয়ার পর ফরহাদ মজহার কবিতায় লিখেছিলেন, “আমি তোকে ডেকে বলতে পারতুম হুমায়ূন অতো দ্রুত নয়, আরো আস্তে যা।” পুলিশ সে সময়ে ফরহাদ মজহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল বলে শোনা যায়। এরপরই তিনি আমেরিকা চলে যান। এই কারণে পরবর্তীতে অনেকে ফরহাদ মজহারকে হুমায়ুন কবিরের খুনের সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করতেন। তবে এই সন্দেহটি হুমায়ুন কবিরের পরিবারের কেউ করতেন না। হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর পর আহমদ ছফা লিখলেন-

“ভাত খেলাম। কাপড় ধুয়ে দিলাম। ঘুমোলাম। মনওয়ার এবং মসি এসে জাগালো। মসি ছেলেটাকে আমি ভয়ঙ্কর অপছন্দ করি। মনে হয় ছেলেটা কি একটা মতলবে ঘুরছে। আমার ধারণা হুমায়ুনের মৃত্যুরহস্যটা সে জানে। দিনে দিনে এ ধারণাটা আমার মনে পরিষ্কার রূপ লাভ করছে। কেমন জানি মনে হয়, ছেলেটার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। এ ধরনের ছেলেদের কি করে এড়িয়ে চলবো সেটা একটা সমস্যা। রেবুদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে সম্ভবত। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করতে পারিনি। আশা করছি এরই মধ্যে নতুন কোনো তথ্য জেনে যাবো। ফরহাদ মজহারের আমেরিকা পলায়ন, সালেহার সঙ্গে স্বামীর পুনর্মিলন এসবের সঙ্গে বোধ হয় হুমায়ুনের মৃত্যুর একটা সম্পর্ক জড়িত রয়েছে।”

হুমায়ুন করবিকে কীভাবে হত্যা কথা হয়েছে তার ইতিহাস আশরাফ কায়সার, বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা, দ্বিতীয় মুদ্রণ, জুলাই ১৯৯৮, পৃষ্ঠা ১৫৪-১৫৫ ও মহিউদ্দিন আহমদের লেখা লাল সন্ত্রাস: লাল সন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি বইতে পাই। কেন কবি হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হল তা লাল সন্ত্রাস বইতে বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে। পৃ.১১৪-১২৫. শুধু হত্যা করেই সর্বহারা পার্টি ক্ষান্ত হয়নি, ১৯৭২ সালের ৮-৯ জুলাইয়ে পার্টির ৪র্থ সভায় ফজলু চক্র ও হুমায়ুন করিব-সংক্রান্ত বক্তব্য অনুমোদন করা হয়। এবং ফজলু চক্রকে যারা খতম করেছে তাদের বীরত্বের জন্য কাস্তে-হাতুড়িখচিত একটি স্বর্ণপদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

“শ্রমিক আন্দোলন থেকে জন্ম নিল সর্বহারা পার্টি। হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই ফিরোজ কবির ছিলেন সর্বহারা পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী। ছোট বোন ছবির সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে হয় সর্বহারা পার্টির আরেক নেতা সেলিম শাহনেওয়াজের। পার্টিতে সেলিমের নাম ফজলু আর ছবির নাম মিনু। ফজলু, মিনু এবং ফিরোজ তিনজনই বরিশালের পেয়ারাবাগানে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেন। একপর্যায়ে সিরাজ সিকদারের সঙ্গে ফিরোজের মতভেদ হয়। সিকদার ফিরোজকে দল থেকে বের করে দেন। এর কিছুদিন পরেই ফিরোজ পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েন এবং নিহত হন।

পেয়ারাবাগানে কুড়িয়ানার যুদ্ধে সর্বহারা পার্টির অনেকেই বীরের মতো লড়াই করেছেন। তাঁদের অন্যতম ছিলেন ফিরোজ। কুড়িয়ানার শহীদদের উদ্দেশে ‘সাহস সাহস’ নামে একটি কবিতা লেখেন হুমায়ুন কবির। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কুসুমিত ইস্পাত-এ কবিতাটি স্থান পেয়েছে। এই কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি এরকম:

পাটাতনে বজ্র পড়ে পৈশাচিক তাইফুন ঝড়ে
পাল ছেড়ে হাল ভাঙ্গে খানখান বিশাল জাহাজ
তবুও ঝড়ের যুবা তুলে নেয় দীর্ঘ তলোয়ার
হা হা হাসে পাঞ্জা লড়ে সারারাত শয়তানের সাথে
রক্তের গভীর থেকে আঁচ দেয় কুড়িয়ানা,
দীপ্ত কুড়িয়ানা বিলের গভীর জল, শার্পশট, ফিরোজের দেহ।

ফিরোজের মৃত্যু হুমায়ুনকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তখন থেকেই তিনি সিরাজ সিকদারের সন্দেহের তালিকায়। দল থেকে বহিষ্কৃত একজন ক্যাডারের জন্য হুমায়ুনের এই ভালোবাসাকে সিকদার পেটিবুর্জোয়া বিচ্যুতি হিসেবে দেখলেন।

হুমায়ুনের ছোট বোন ছবির স্বামী সেলিম শাহনেওয়াজ ওরফে ফজলুকে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। হুমায়ুন তখন ঢাকায় ইন্দিরা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। টিনশেড একতলা বাড়ি। ভাড়া মাসে পাঁচশ টাকা। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ফজলু এই বাসায় এসেছিলেন ছবিকে নিয়ে। এক রাত থেকে তিনি চলে যান বরিশাল। দুদিন পর তিনি খুন হন। ঢাকায় ফজলুকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সর্বহারা পার্টি। সিরাজ সিকদারের কাছে ‘ষড়যন্ত্রকারী’র ক্ষমা নেই। তিনি হুমায়ুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দলের দুজন কর্মী বাহাত্তরের ৬ জুন রাতে সাইকেল চালিয়ে ইন্দিরা রোডে হুমায়ুনের বাসায় যান। তাঁকে বাসা থেকে ডেকে এনে সামনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

শুধু মাঠে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হুমায়ুন কবির বাংলা একাডেমিকে মার্চে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা গবেষণার কাজ করতেন। বাহাত্তরের বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তিন মাস না। প্রেরোতেই তাঁর শিক্ষকতায় যবনিকা পড়ল। ওই রাতের কথা কখনো ভুলতে পারবেন না সুলতানা রেবু। তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন এভাবে:

জুন মাসের অসহ্য গরম। রাত তখন দশটা। আমার দুই শিশুসন্তান পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখছে। আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। দরজা ধাক্কা দিয়ে পাশের বাড়ির একজন আমার ঘুম ভাঙালেন। বললেন, আমার সঙ্গে আসেন। তিনি দেখেছেন, দুজন লোক সাইকেলে চড়ে এ বাসায় এসেছিল। হুমায়ুন তাদের সঙ্গে বেরিয়ে যান। প্রতিবেশী বললেন, হুমায়ুন মাঠে শুয়ে আছেন। ব্যাপারটা কী? প্রথমে ভেবেছিলাম, অসহ্য গরমের কারণে বোধ হয় বাসা থেকে বের হয়ে মাঠে শুয়ে আছে। আমি হুমায়ুনের নাম ধরে ডাকলাম। কোনো নড়াচড়া নেই। মাথায় হাত রাখতেই হাত ভিজে গেল রক্তে। প্রতিবেশী আর আমি ধরাধরি করে তাকে তুললাম একটা বেবিট্যাক্সিতে। সোজা নিয়ে গেলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতাল থেকে ফোন করলাম আমাদের পারিবারিক বন্ধু আহমদ ছফাকে। ছফা ভাই জানালেন আহমদ শরীফ স্যারকে। ছফা ভাই খবরটা শুনেই হাসপাতালে এলেন। আমি ডাক্তারদের ডিউটি রুমের পাশে বসে ছিলাম। হুমায়ুনকে যেখানে রাখা হয়েছিল, আমাকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। ওর কানের পাশ দিয়ে গুলি ঢুকেছিল। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। একসময় সে ঢলে পড়ল।

হুমায়ুন কবির সর্বহারা পার্টি করুন আর না-ই করুন, এই দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল। বৃহত্তর বরিশাল জেলায় এই দলের প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। এদের অনেককেই তিনি জানতেন। তিনি কি কখনো ভেবেছিলেন তাঁকে এমনভাবে চলে যেতে হবে? নাকি যে ভয়ংকর পথের যাত্রীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তুর্কি অনিবার্য পরিণতি সম্পর্কে অবচেতনেও উঁকি দিয়েছিল শঙ্কা? তাই তিনি লিখেছিলেন:

সবুজ গর্বিত শির উঠেছে আকাশে
জননীর ভালোবাসা শির শিরস্ত্রাণ সঙ্গে নিয়ে আছো
গোলরক্ষকের মতো সাবলীল লুফছো মৃত্যুকে
প্রসন্ন ভোরের হাসি তুলে নাও ঠোঁটে
ফুসফুস বিদ্ধ করে আততায়ী বুলেট যখন।

খুন করার আগে হুমায়ুনকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। একজন অপেক্ষা করছিল সামনের মাঠে। অন্যজন কড়া নেড়ে ডেকেছিল তাঁকে। সর্বহারা পার্টির সংস্কৃতির সঙ্গে হুমায়ুনের চেনাজানা আছে। রাত দশটায় হুট করে অচেনা কেউ ডাকলে তিনি বের হবেন কেন? যে এসেছিল, হুমায়ুন তার সঙ্গে মাঠে যান। বোঝা যায়, আগন্তুক তাঁর চেনা এবং তাকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ ঘটেনি। একজন বিশ্বস্ত লোককে পাঠিয়ে তাঁকে যে একটা ফাঁদে ফেলা হচ্ছে, এটা তিনি বুঝতে পারেননি। সুকৌশলে ফাঁদটি পাতা হয়েছিল।

প্রথমে মনে হয়েছিল, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সর্বহারা পার্টির মধ্যেও কানাঘুষা ছিল, দলের অতি-উৎসাহী কেউ কাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। অবশেষে সব জল্পনাকল্পনার অবসান হয় ১০ জুন। সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নামে প্রচারিত একটি লিফলেটে হুমায়ুন কবির হত্যার দায় নিয়ে নেয় সর্বহারা পার্টি। ‘হুমায়ুন কবির প্রসঙ্গে বক্তব্য’ শিরোনামে এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের প্রেক্ষাপট ও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয় এভাবে:

হুমায়ুন কবির পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে সুবিধাবাদ, ব্যক্তিস্বার্থে (স্ত্রী, পরিবার) চাকরি ও পদের স্বার্থে সে নিস্ত্রিয় হয়ে পড়ে। বহুদিন তার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন থাকে।

বরিশালে সে একবার ধর বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ করে। পড়ে। কিন্তু জেল থেকে সে বন্ড দিয়ে বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ পাক বাহিনীর দস্যুদের কাছে সে আত্মসমর্পণ করে।

২৬ মার্চ-পরবর্তী সময়ে সে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকে। পার্টি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বারবার জাতি ও জনগণের এই সংকটজনক অবস্থায় বিপ্লবে যোগদানের আহ্বান জানায়। শেষ পর্যন্ত সে এর শর্ত হিসেবে বিরাট অঙ্কের ভাগ চায়। পার্টি বারবার বোঝানোর ফলে সে কিছুটা তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। এটা সে করে আত্মপ্রচার ও দুঃসাহসী বীর হিসেবে নিজেকে জাহির করার জন্য।

ইতিমধ্যে তার ভাই ফিরোজ কবির ওরফে তারেক চক্রান্ত করে একজন কমরেডকে হত্যা, সমরবাদী নীতি, বন্দুকের ডগায় নারীদের নিয়ে স্বেচ্ছাচার করার জন্য পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি কর্তৃক বহিষ্কৃত হয়। হুমায়ুন কবির এই বহিষ্কারকে শুধু যে মেনে নিতে পারেনি তা-ই নয়, পার্টির মতামতকে উপেক্ষা করে সে তার ভাই ও সামন্তবাদী বংশকে বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পত্রিকায় এবং বাংলা একাডেমিতে তার ভাইয়ের জীবনী (সত্যকে লুকিয়ে রেখে) ছাপানোর ব্যবস্থা করে।

সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ, নাম যশ করার পুরোপুরি বুর্জোয়া দৃষ্টিকোণসম্পন্ন হওয়ায় স্বভাবতই হুমায়ুন কবিরের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য ছিল। তার ইচ্ছা ছিল আরএসপির নির্মল সেন ও প্রফেসর সিদ্দিকের মতো চাকরি ও বুর্জোয়া জীবনযাপন করে সর্বহারা পার্টির নেতা হওয়া এবং লেখক হিসেবে নিজেকে জাহির করা। তার এই মনোভাব এবং তার ভাই ফিরোজ কবির-সংক্রান্ত পার্টির সিদ্ধান্ত তাকে প্ররোচিত করে ফজলু-সুলতান চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে।

ফজলু চক্রের উদ্ভব ও বিকাশের একটা সময় পর্যন্ত হুমায়ুন কবির পার্টি ও কমরেডদের ভাঁওতা দেয় যে সে এর সঙ্গে যুক্ত না। ফজলু চক্র-সংক্রান্ত প্রথম সার্কুলার পড়ে সে বলে, ‘পার্টি যখনই ভালো অবস্থায় আসে, তখনই কিছু লোক পার্টিকে ধ্বংস করতে আসে। ফজলু-সুলতান চক্রকে খতম করা উচিত। আমার বোনটা (ফজলুর স্ত্রী) একটা খারাপ লোকের হাতে পড়েছি। তাকে (বোনকে) পেলে আমার কাছে ফেরত দিয়ে যাবেন। আপনারা কী করছেন? এখনো তাদের খুঁজে বের করে খতম করছেন না কেন?’

একদিকে সে এ ধরনের কথা বলছে, অন্যদিকে ফজলু চক্র ও নিজের বোনকে আশ্রয় দিয়েছে। পার্টি ও নেতৃত্ববিরোধী অপপ্রচার ও জঘন্য ব্যক্তিগত কুৎসা-সংবলিত দলিলাদি লিখেছে, ছাপিয়েছে এবং বিতরণ করেছে, চক্রের প্রধান প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবী হিসেবে কাজ করেছে। তার উদ্দেশ্য ছিল চক্রান্তকারীদের চর হিসেবে গোপনে পার্টির মধ্যে অবস্থান করা, যাতে ফজলু চক্রের পতন হলেও সে পার্টির মাঝে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং পার্টির বিরাট আকারে ক্ষতি সাধন করতে পারে। সে পার্টির প্রতি বিশ্বস্ততা দেখিয়েছে আর গোপনে ঢাকায় ফজলু চক্রের গুপ্তঘাতক দলের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছে। এভাবে দীর্ঘদিন সে পার্টির মাঝে গুপ্ত বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিরাজ করে। সে পুরোপুরি পার্টির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।… তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ পুতুল সরকার যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে, আজ পর্যন্ত কোনো নিহত বুদ্ধিজীবীর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। উপরন্তু বাংলা একাডেমি ও অন্যান্য স্থানে সকলেই জানে, সে বামপন্থী দল সর্বহারা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যে, সর্বহারা পার্টির একজন সাধারণ কর্মী লিফলেট বিতরণ করতে যেয়ে ধরা পড়লে তার হাত ভাঙা হয় এবং চরম নির্যাতন চালানো হয়। বর্তমানে তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়েছে। অতীতে আমাদের কর্মী এমনকি সহানুভূতিশীলদের পেলেও খতম করা হয়েছে। বর্তমানেও এরূপ নির্দেশ রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ পুতুল সরকার ও ছয় পাহাড়ের দালালদের হুমায়ুন কবিরের প্রতি এই বিশেষ দরদের তাৎপর্য কী?

এই বিবৃতিতে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এতদিন ধরে একজন ব্যক্তি পার্টির সঙ্গে আছেন, বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টে কাজ করছেন, চমৎকার সব কবিতা লিখছেন। বলা নেই কওয়া নেই, কোনো সতর্কবাণী নেই, ভুল হয়ে থাকলে তা শোধরানোর কোনো সময়সীমা সময়স নেই, দল থেকে বহিষ্কারের আয়োজন নেই, এক লাফে চরম দণ্ড দিয়ে দেওয়া হলো!

হুমায়ুন কবির হত্যাকাণ্ডে ঢাকার বিদ্বজ্জনের মধ্যে তোলপাড় হয়েছিল। দলের মধ্যে ‘শুদ্ধিকরণের’ নামে এরকম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হবে, এটা অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল, দলবিরোধী কাজে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ থাকলে বিবৃতি দিয়ে দল থেকে বের করে দিলেই তো হতো। মেরে ফেলতে হবে কেন?

হুমায়ুন কবিরকে কারা এসেছিল খুন করতে? অনুসন্ধানে জানা যায়, দুজন আততায়ী এসেছিল তাঁর কাছে। হুমায়ুনের কাছে একটা এসএমজি এবং দুটি পিস্তল ছিল। তাঁকে হত্যা করার আগে অস্ত্রগুলো তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয়। একটি পিস্তল ছিল জনৈক ইকবালের কাছে। হুমায়ুন হত্যায় ওই পিস্তলটি ব্যবহার করা হয়। খুন করার আগে আগন্তুক তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। তারপর তাঁকে মাঠে নিয়ে যায়। মাঠে অপেক্ষা করছিল আরেকজন। যে ডেকে নিয়েছিল, সে হুমায়ুনের পূর্বপরিচিত এবং আস্থাভাজন।

হুমায়ুনকে আগেই নিরস্ত্র করা হয়েছিল। অর্থাৎ তাঁর সংগ্রহে থাকা অস্ত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয় কয়েকদিন আগে। ফজলু খুন হওয়ার তিনদিন পর হুমায়ুন খুন হন। ধারণা করা যেতে পারে, দুজনকে একই সময় হত্যার ছক কষা হয়েছিল। ফজলুকেও একই প্রক্রিয়ায় খুন করা হয়। তাঁকে বরিশালে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হুমায়ুনের বোন, ফজলুর স্ত্রী ছবিকে পেলে তাঁকেও হত্যা করা হতো।

হুমায়ুনের বিরুদ্ধে পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগের যে ফিরিস্তি দেওয়া হয়, তা দাঁড় করানো হয় খুনের পরে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বেশ কড়া-পার্টির বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা, ছোট ভাই ফিরোজ কবিরের বহিষ্কারকে মেনে না নেওয়া, বোনের স্বামী ফজলুকে সমর্থন দেওয়া, বোনকে আশ্রয় দেওয়া। এখানেই শেষ নয়। হুমায়ুনের পরিবারকে চিহ্নিত করা হয় ‘সামন্তবাদী’ হিসেবে। চাকরি করা এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

হুমায়ুন কবিরের খুব কাছের বন্ধু ফরহাদ মজহার। ফরহাদ পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী ছিলেন না। তাঁদের আরেক বন্ধু আহমদ ছফা ছিলেন পার্টির প্রতি ‘সহানুভূতিশীল’। তাঁরা আরও কয়েকজনকে নিয়ে প্রথাবিরোধী ও প্রগতিবাদী লেখকদের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’। এ সময় একটা স্ক্যান্ডাল রটানো হয়, হুমায়ুন হত্যার সঙ্গে ফরহাদ জড়িত। তিলকে তাল বানানোর স্বভাব আছে অনেকের। এতে তারা বিকৃত আনন্দ পায়।

হুমায়ুন কবির খুন হওয়ার পর ফরহাদ মজহারকে নিয়ে পুলিশ টানাটানি করেছিল। আহমদ ছফাকে নিয়েও টানাহেঁচড়া হয়। হুমায়ুন হত্যার সঙ্গে এঁরা জড়িত, এটা হুমায়ুনের পরিবারে কেউ বিশ্বাস করেন না। পার্টির লোকেরাও এ প্রচারণাকে আমল দেয়নি। হুমায়ুন খুন হলেছিল সিরাজ সিকদারের নেওয়া সিদ্ধান্তে, পার্টির লোকদের হাতে।

হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর পর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত কণ্ঠস্বর পত্রিকার একটি বিশেষ সংখ্যা নামে উৎসর্গ করা হয়। মজহারের একটি কবিতা ছিল তিনি লিখেছিলেন :

সেখানে ফরহাদ আমিও বলতে পারতুম যেমন বন্ধুরা আমাকে বলে
আমি বন্ধুর মতোন গ্রীবা উঁচিয়ে বলতে পারতুম
হুমায়ুনের কাঁধে হাত রেখে বলতে পারতুম, ‘হুমায়ুন
আয় আমার সঙ্গে বোস, আমরা কিছু না-ছুঁয়ে বসে থাকব।’
জানিয়ে দিতে পারতুম ইস্পাতের সঙ্গে কুসুমের ভালোবাসা ভালো না।
ভালো নয় সেতুর উপর দাঁড়িয়ে খেয়ার জন্য অপেক্ষা করা
ভালো নয় ইন্দিরা রোডে রেবুকে ফেলে লেখক শিবিরে মেতে থাকা
বলতে পারতুম ‘অত দ্রুত নয় হুমায়ুন, আস্তে আস্তে যা।’

হুমায়ুন খুন হওয়ার পর সর্বহারা পার্টির বিবৃতিতে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ‘চাকরি ও বুর্জোয়া জীবনযাপনের’ প্রতি লোভের ইঙ্গিত দিয়ে বিষোদগার করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে হুমায়ুন ও রেবুর সংসারে সচ্ছলতা ছিল না। হুমায়ুন কপর্দকশূন্য অবস্থায় মারা যান। তাঁর পরিবার কীভাবে চলবে, এ নিয়ে বন্ধুরা বিচলিত হন। ওই সময়ের একটি বিবরণ পাওয়া যায় শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দলের নেতা ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্মল সেনের বয়ানে:

হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী সুলতানা রেবু একসময় আমাদের দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। হুমায়ুন কবির খুন হয়ে যাওয়ায় পারিবারিকভাবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। আমি গণভবনে গেলাম। দেখলাম দূরে তাঁর কক্ষে প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। পাশে দাঁড়িয়ে রফিকুল্লাহ চৌধুরী। রফিকুল্লাহকে বললাম, চেক বইটা নিয়ে আসুন। প্রধানমন্ত্রী, আপনার তহবিল থেকে দুই হাজার টাকার একটি চেক লেখেন সুলতানা রেবুর নামে। টাকার বড্ড প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী হেসে বললেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন নাকি। হুমায়ুন কবির কি মুক্তিযোদ্ধা? তাঁর পরিবারকে টাকা দের কেন? আমি বললাম, টাকা দিতে হবে এটাই শেষ কথা। আমার যুক্তি হচ্ছে-আপনি প্রধানমন্ত্রী। আপনার আমলে হুমায়ুন কবির খুন হয়েছে। আপনার সরকার এখনো আততায়ীকে ধরতে পারেনি। তাই আপনাকে জরিমানা দিতে হবে দুই হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী জোরে হেসে ফেললেন। রফিকুল্লাহ চৌধুরী চেক লিখে নিয়ে এল। প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করলেন।

হুমায়ুন কবির নিহত হওয়ার তিনদিন পর লেখক শিবিরের উদ্যোগে তাঁর বন্ধু ও ভক্তরা একটি মিছিল করে গণভবনে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবনেই ছিলেন। তিনি সমবেত লেখক ও ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, হুমায়ুন কবিরের নিহত হওয়ার খবরটি শুনে তিনি খুব মর্মাহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান এবং তাদের সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন। সংবাদটি ১০ জুন পূর্বদেশ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ছিলেন মেহেরুন্নেসা চৌধুরী। তাঁর আগ্রহে ও চেষ্টায় সুলতানা রেবু ওই হলে হাউস টিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। লেখককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেহেরুন্নেসা চৌধুরী বলেন:

আমি বাহাত্তরের এপ্রিলে শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পাই। এর আগে ছিলাম রোকেয়া হলের হাউস টিউটর। শামসুন্নাহার হলের বিল্ডিং তখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। মাত্র একটা ফ্লোর রেডি হয়েছে। সব সিঙ্গেল সিটেট রুম। রোকেয়া হলে আড়াইশ মেয়ে ডাবলিং করত। ওরা দাবি জানিয়েছিল, তাড়াতাড়ি সেখানে উঠে যেতে।

হুমায়ুন কবির বাংলা ডিপার্টমেন্টে সবার প্রিয় ছিল। খুব ভালো লিখত। আহমদ শরীফ সাহেব, নীলিমা ইব্রাহীম সবাই তাকে খুব পছন্দ করতেন। তাঁরা চাচ্ছিলেন সুলতানা রেবুর জন্য কিছু করতে।

খবর পেয়েই আমি ছুটে গেছি ইন্দিরা রোডে ওর বাসায়। মাঠের পাশে কয়েকটা টিনশেড ঘর। সেখানে একটা বাসায় থাকত। খুঁজে পেলাম। আমাকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল আমার ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী। রেবুর জন্য খুব খারাপ লাগছিল । বরিশাল মহিলা কলেজে ও আমার ছাত্রী ছিল। আমি প্রিন্সিপাল। হিস্ট্রি পড়াতাম। ওর বাড়ির অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার ফিস দিতে দেরি হয়েছিল। পরীক্ষায় পাস করে সে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বাংলা ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছিল।

ওর বাসাটা খুঁজে পেলাম। দেখলাম ও ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। কোলে একটা বাচ্চা মেয়ে। ওর নাম খেয়া। বড় ছেলেটার নাম আদিত্য, ডাক নাম সেতু। ছোট ছেলেটার নাম অভীক।

আমি ওকে জড়িয়ে ধরেছি। এ তো হাঁটতেই পারে না, এত নার্ভাস। শুধু কাঁদে। তাকে বললাম, একটা কিছু করা হবে তোমার জন্য। চিন্তা করো না।

বাংলা ডিপার্টমেন্টের সবাই তার জন্য উদ্বিগ্ন। সে তো থাকে বাচ্চাদের নিয়ে একা, একটা নিরিবিলি জায়গায়। বাংলা ডিপার্টমেন্টের সবাই মিলে একটা বাসার ব্যবস্থা করে তাদের সেখানে নিয়ে এল। বরিশালের মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমাদের জানাশোনা। আমি রেবুকে নিয়ে সেরনিয়াবাত সাহেবের কাছে গেলাম। বললাম, ওর জন্য একটা কিছু করা দরকার। সেরনিয়াবাত সাহেব বললেন, ওরা তো আমাদের বিরুদ্ধে। বললাম, কিছু একটা করতেই হবে। ও আমার ছাত্রী।

আমি তাকে শামসুন্নাহার হলের হাউস টিউটর হিসেবে নিলাম। হাউস টিউটরদের জন্য বাসার ব্যবস্থা ছিল। একটা তিনতলা বিল্ডিং। তখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। রেবু বলল, ও দোতলায় থাকতে চায়। আমি দোতলাটা তাড়াতাড়ি রেডি করালাম। ও সেখানে এসে উঠল।

পরে তাকে হাউস টিউটর পদ থেকে সরিয়ে টিএসসির স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং অ্যান্ড গাইডেন্সের উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমি তখন সেখানে পরিচালক। থাকত শামসুন্নাহার হলের হাউস টিউটরের কোয়ার্টারেই। টিএসসির কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বাসা বরাদ্দ ছিল না।

১৬ জুন এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি মওলানা ভাসানী হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুতে শোক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জানান তিনি আহ্বান জানান।

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.