মাঝরাতে ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীবের একটা বই খুঁজে পেলাম। তোয়াহা বিন হাবীব ছিলেন পাকিস্তানপন্থী ধনী রাজনীতিবিদ। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলীয় ঐক্য জোটেরও জয়েন্ট সেক্রেটারী ছিলেন। ছিলেন মুসলিম লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারীও। যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব সংক্ষেপে হোয়াহা বিন হাবিব। এই লোককে নিয়ে গুগলে তেমন কোন তথ্য খুঁজে পেলাম না। তার বই- এ হ’লো ইসলাম বইতেও লেখক পরিচিতি নেই। স্বাধীনতার পর তোয়াহা কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন দলের সদস্য হন। তোয়াহা বিন হাবিব নিজের বইতে স্বীকার করেছেন যে অনেক চেষ্টা করেও তিনি তার ছোট দুই ভাইকে জামাতের রাজনৈতিক ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে পারেন নাই। ফলে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানীদের পক্ষে আলবদর দলে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।
জামাতের লোকজনের টাকা মেরে দেওয়ার ইতিহাস
ইয়াহুদী ইসলামী ও তাবলীগী লোককে টাকা ধার দিয়েছি, কারো কাছ থেকে সম্পর্ক নষ্ট ব্যতীত টাকা ফেরত পাইনি। তার মধ্যে জামাতের সাথে জড়িত লোকেরা সবচেয়ে নিকৃষ্ট। মাওলানা আব্দুর রহীমের পুত্র সম্পর্কে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কুলাঙ্গার তার ছেলে মেয়েদের আমেরিকান বানানোর জন্য এপথ বেছে নিয়েছে। এপথেই সে নিজের বাড়ি করে নিয়েছে। সে নিজে কাগজ-কলমে কোনো দেনা নেই। তাকে যারা সাহায্য করেছে, সব দেনা তাদের ঘাড়ে। সে আমাকে ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যাংকের খাতায় ঋণী করে পলাতক। জামায়াতে ইসলামের এককালীন সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল খালেকের শালা অধ্যাপক, অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম আজ থেকে বিশ-বছর পূর্বে এসে পঞ্চাশ হাযার টাকা ধার নিয়েছে। কয়েক শতবার মিথ্যা ওয়াদা করেছে। আজ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়নি।
আশরাফ হোসেন নামে এক আলবদরকে ধার দিয়ে ওর বকা শুনেছি। এরা নিকৃষ্ট মানব প্রজাতি। অপর দিকে আওয়ামী লীগসহ কম্যুনিষ্ঠ পাটির লোকদের টাকা ধার দিয়ে শুধু টাকাই ফেরত পাইনি। সম্পর্ক উন্নয়ন হয়েছে। মধুর কৃতজ্ঞতাবোধ পেয়েছি। দেশের মাদ্রাসা, মসজিদ, মাযার, পীরের দরগা ও হুজুরদের সাথে লেনদেন করে যে ফলাফল পেয়েছি তার আলোকে আল্লাহর দরবারে দোয়া, ‘ইয়া আল্লাহ্! আপনি ইসলামীদের (?) হাত থেকে আপনার দ্বীন ইসলামকে তুলে নিয়ে কোনো লেনদেনে স্বচ্ছ কাফেরদের ঈমান দিয়ে তাদের হাতে সদ করুন।” এ সত্যটি সুস্পষ্ট করার জন্যই সূরা তওবায় আল্লাহ্ কর্তৃক বর্ণিত ধর্মব্যবসায়ীদের চিত্র তুলে ধরেছি। বিশেষ করে অধ্যাপক গোলাম আযমের ব্যাপারটাকে বেশী করে হাইলাইট করার কারণ, লোকটি এ দেশে ইসলামের নামে মায়ের সাথে ব্যভিচারের সুদী ব্যাংক করে এ দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষিত যুবকদের বিপথগামী করে এদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে। তার সঙ্গী হয়ে মৌলবী আযীযুল হকও জাতিকে এক সংঘাতময় বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমার এ লেখা পড়ে আল্লাহ্ যদি এদের কপালে তওবা রাখেন, তা হেেল এরা যেনো তওবা করে নাজাতের পথ পায়। আর কপালে তা না থাকলে তাদের পেছনে জড়ো হওয়া সরল বিশ্বাসী লোকেরা যেনো ওদের ত্যাগ করে নিজেদের ঈমান রক্ষা করতে সক্ষম হয়। (পৃ.৩৮২)
জামায়াত সম্পর্কে
ইসলাম তথা মুসলিম স্বাতন্ত্র্যকে ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে রক্ষার জন্য কিছু লোক পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখা আবশ্যক মনে করে যে শান্তির প্রচেষ্টা করেছিলো, তারা অবশ্যই বর্তমান ভারতীয় আধিপত্ববাদ আঁচ করতে পেরে তখন তা করেছিলো। এরা অবশ্যই তাদের অবস্থানে মুক্তিকামী মুক্তিবাহিনী ছিলো। তারা কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক ফায়দা লুটকারী নিন্দনীয় রেজাকার আলবদর ছিলো না। দ্বিতীয় শ্রেণী সুযোগসন্ধানী স্বার্থশিকারী ছিলো। ধর্মকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য তারা সোপান হিসাবে ব্যবহার করতে ময়দানে নেমেছিলো। তৃতীয় শ্রেণী ছিলো ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের নির্লজ্জ ফুর্তিবাহিনী। প্রথম শ্রেণী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকীর্ণ স্বার্থের উর্ধ্বে আদর্শবাদী ছিলো। সংখ্যায় তারা কম হলেও নগণ্য ছিলোনা। এরা ত্যাগী আদর্শবাদী ছিলো। এ শ্রেণীর লোক প্রত্যেক সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ। যে সমাজ ও জাতি এদের সঠিক মূল্যায়ন করে, তারা সফল হয়। দ্বিতীয় শ্রেণী ছিলো, বলা চলে, ধর্মবেসাতী নির্লজ্জ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থপরায়ণ শ্রেণী। এদের সংখ্যা অনেক। এদের নেতারা জনগণের দুর্বলতার দিকগুলো চিহ্নিত করে তা, তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে। এরা মূলতঃ সমাজ ও জাতির নিকৃষ্টতম কুৎসিত ব্যক্তিবর্গ। মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলামের সুযোগ সন্ধানী নেতৃত্ব এর দৃষ্টান্ত। এরা এদের রাজনৈতিক ব্যর্থতায় নিশ্চিত ছিলো যে জনগণের সমর্থন নিয়ে তারা কখনো ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হবেনা। তাই সাম্প্রাদায়িকতা ও ধর্মের ব্যানার ঝুলিয়ে দেশের কোমলমতি যুবশ্রেণীকে তাদের স্বার্থের বলিরূপে ব্যবহার করতে, ওদের জান, মাল ও মা বোনের মান ইজ্জতও নিলাম করতেও এরা কুণ্ঠাবোধ করেনি। ধর্মকেও এদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে এরা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধী। তৃতীয় শ্রেণী সমাজের ভাসমান ইতর শ্রেণী। এদের কোনো ধর্ম, জাত, দল বা আদর্শ নেই। যখন যেমন সুযোগ পায়, তা থেকে ফায়দা লুটার জন্য প্রয়োজনীয় রূপ ধারণ করে তৎপর হয়ে যায়। এদেরই ফুর্তি বাহিনী নামকরণ করেছি। দ্বিতীয় শ্রেণীর সাথে এদের স্বার্থের মিল থাকায় এরা পরস্পর সম্পূরক। সমাজকে মুক্ত ও সুস্থরূপে গড়তে পরগাছার মতো এদের নির্মূল করা অপরিহার্য। এ দু’শ্রেণী মিলে সমাজকে ঘুণের মতো নিঃশেষ করে ফেলেছে। প্রথম শ্রেণী এদের নির্লজ্জ বিচরণে স্বীয় মান ঈমান রক্ষার্থে ঘরবসা হয়ে যায়। যে জাতি উঠতে চায়, তাদের প্রথম কাজ হলো এদের খুঁজে বের করে তাদের পেছনে প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
[এ হ’লো ইসলা-ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব, পৃ. ২৪৩]
জামাতের নেতারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলেও নামাজটা ঠিক মতন পড়েন না
যে সালাতে লোকেরা উঠেনা, তাদের ধর্ম-কর্মকে আমি লোক দেখানো মেকী মনে করি। আযীয আহমাদ বিল ইয়ামিনী কোন্ শ্রেণীর মুসলমান জানার জন্য একদিন তাকে না বলে আমার প্রতিবেশী খলীলুর রহমান সাহেবকে নিয়ে ফজরের পর তার বাসায় উপস্থিত হলাম। তখন বেলা উঠেছে। দেখতে পেলাম যে, বিল ইয়ামীনী কোনো প্রকার সিজদা করে ফজর সারছে। বড়ো ছেলেকে দেখলাম সালাত না পড়ে ঘুমাচ্ছে। এক ধমক দিয়ে ছেলেকে সালাত আদায় না করার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। চোখ ডলতে ডলতে সে বললো যে ফজরে উঠতে কষ্ট হয়। অন্যান্য ওয়াক্ত সময়মতো পড়ে। আমি বললাম যে ফজর দিনের হাজিরার সালাত। তা বাদগেলে সব গরহাজির। তারপর সে জানালো যে তার মা সাইয়েদ, তাই নামাজ-রোজা ছাড়া তাদের বেহেশত নিশ্চিত। আর যায় কোথা? বিল ইয়ামিনীসহ পুরা সাইয়েদদের ধোলাই হলো। সকালে চা নাস্তার ব্যবস্থা হলো, তাও আমি খেলাম না। তার পত্রিকা ও পাকিস্তানের ইসলামের কুষ্টিনামা আলোচিত হলো। তারপর কালো প্যান্ট, সাদা সার্ট ও কালো টাই পরা এক চিকন-চাকন ব্যক্তি প্রবেশ করলো। এ হলো শাহ আব্দুল হান্নান। পত্রিকার মালিকের ইসলাম যেহেতু পাতলা, তাই তার নবীশের ইসলামও প্রথম দর্শনে পাতলাই বলে আমার মনে অঙ্কিত হলো। তারপর আজ পর্যন্ত আমার সাথে আব্দুল হান্নানের সাক্ষাত হয়নি। তবে জামাতীদের মুখে অধ্যাপক গোলাম আযমের পরিবারের লোকদের মুখে তার নাম উচ্চারণ হতে শুনেছি। কারণ শাহ আব্দুল হান্নান প্রফেসর আযমের আত্মীয়। বাংলাদেশ হওয়ার পরও সে সরকারী চাকুরে। ইসলামের প্রথম শর্তই হলো তাগুত ত্যাগ করে ইসলামের ক্ষেত্র তৈরী হয়। তাগুতের গোলামী করে মুসলিম বা ঈমানদার হওয়া অকল্পনীয়। জামায়াতে ইসলামের হয়ে এক ব্যক্তি তাগুতের বেতনভুক্ত চাকর, ক্বোরআন হাদীস সম্পর্কে মূর্খ, মাওলানা মওদূদীর সৈয়দী ইসলামের সাহিত্যের বঙ্গানুবাদ পড়া জ্ঞানই যার ইসলামী আঁতালাকচুয়ালীর সবেধন নীলমনি, সে ব্যক্তি হাফেজ আব্দুর রউফের মতো একজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তিকে হয়রান করবে, এ আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হলো। তাও যাই হোক, একটি ইসলামী কাজে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সন্ত্রাসী বাধা! আমি হাফেজ সাহেবকে বললাম, “আপনি যান, গিয়ে ওর মুখে থু দিয়ে বলে আসুন যে, ও যা পারে করে যেনো। তারপর দেখা যাবে।” আমি মূল ব্যাপারটা বিস্তারিত জানিনা বলে মনস্থ করলাম যে, পরের দিন সকালে বাদ ফজর মাওলানা আব্দুর রহীমের বাসায় গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা শুনবো। কারণ মাওলানা শাহ আব্দুল হান্নানের কুষ্টি জানে। দ্বিতীয় দিন ফজরের পর আমি গিয়ে উঠি মাওলানা আব্দুর রহিমের নাখালপাড়ার বাসায়। তখন আমার বাসা ছিলো তেজগাঁও থানার পশ্চিমে মনিপুরী পাড়ায়। ফজর পড়েই নিজে গাড়ী চালিয়ে যাই বলে বিশ মিনিটের মধ্যেই মাওলানার বাসায় পৌঁছে যাই। আমার আশা ছিলো যে গিয়ে মাওলানাকে তেলাওয়াত বা তাসবিহ্ তাহলীলরত দেখতে পাবো। তা না হয় লেখার টেবিলে পাবো। কিন্তু আমাকেই মাওলানাকে ঘুম থেকে উঠাতে হলো অনেকক্ষণ দরজা পিটিয়ে। মাওলানা আমাকে দেখে বলে উঠলো “এমন সময়ও কেউ কারো বাসায় আসে”? উত্তরে আমি বললাম যে, আল্লাহর মু’মিন বান্দাদের কাছে যাওয়ার সর্বোত্তম সময়ই তো বাদ ফজর! কারণ ফজরের তেলাওয়াতের মজলিসেই না আল্লাহ্ স্বয়ং উপস্থিত হয়ে হাজিরা নেন! যেমন বিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসেই হাজিরা নেয়া হয়। ফজর তো ঈমানদারদের দিনের প্রথম ক্লাস। ইন্না কুরআনাল ফাজরি কানা মাহুদা! সন্ধ্যার পর বরং সাক্ষাৎকারীরা আসেনা। কারণ সন্ধ্যায় রাত্রি শুরু হয়। রাত্র ঘুম ও ইবাদতের জন্য। প্রথম রাত ঘুম, শেষ রাত ইবাদতের জন্য। মাওলানা তার সময়মতো ফজর আদায় করতে গেলো। আমি বসে চিন্তার রাজ্যে ডুবে গেলাম ও ভাবতে লাগলাম। এরাই কি রাসূল সঃ এর উত্তরাধিকারী? একবার ভেবেছিলাম যে উঠে চলে আসি। পরে ভাবলাম যখন এসেছিই তাই নসিহতটা পূর্ণ করেই যাই। যদি আল্লাহ্ এর মধ্যেই কল্যাণ দেন! তাই মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম যে, বয়সের পার্থক্য মন থেকে দূর করে মাওলানাকে আজ এসপার ওসপার যা হয় সব কথা বলবো। কারণ মাওলানা এ দেশের পন্ডিততম ব্যক্তি। মাওলানা সালাত সেরে আসলে আমি তাকে তাদের ইত্তেহাদুল উম্মাহর পূর্ণ বৃত্তান্ত বলতে বল্লাম। মাওলানা ঘটনার আদ্যপান্ত শোনালো। অধ্যাপক গোলাম আযমের কীর্তিকলাপ বলে মাওলানা এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে থামলো। আমি বললাম “বাঙ্গালী মওদূদী সাহেব” এর কারণ কি একবারও ভেবে দেখছেন? আপনিই না গোলাম আযমদের মাওলানা মওদূদীর তাফহীম থেকে আরম্ভ করে সব বই অনুবাদ করে জামাতী বানিয়েছেন! এদেশে আপনাকে বাদ দিয়ে জামাতে ইসলামী কী করে হয়?
[এ হ’লো ইসলাম-ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব, পৃ.৩৪৯]
মাওলানা মূলে সরল প্রকৃতির পন্ডিতব্যক্তি ছিলো। ইত্তেহাদুল উম্মার ঘটনা সম্পর্কে আমার দীর্ঘ আলোচনা ও সালাতের সময় আল্লাহর তরফ থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমার ধারণা হয়েছিলো যে মাওলানার ভিতরে এরপর থেকে তার ও তার পরিবার, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে অবশ্যই পরিবর্তনের লক্ষণ শুরু হবে। এর কিছু দিন পর তার দ্বিতীয় ছেলে ও তার ববিতা বৌ সৌদী আরব থেকে এলে আমার বাসায় এসে মাওলানার ছোট মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিয়ে যায়। আমি বেপর্দা মেয়েদের উদাম মাংস প্রদর্শনীর জন্য সাধারণতঃ কোনো বিয়েতে যাই না। কিন্তু মাওলানা আব্দুর রহীমকে এতো ওয়াজ করার ফল কী তা দেখার জন্য এ বিয়েতে গেলাম। শেরে বাংলা নগরে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের মজলিসে ঢুকে আমি ভূত দেখার ন্যায় দেখলাম যে অসংখ্য ন্যাংটার চেয়ে খারাপ অর্ধোলঙ্গ মেয়েদের মধ্যে নান্না মিয়া সহ মাওলানা আব্দুর রহীম বসে দিব্যি মেয়ের বিয়ে দিচ্ছে। বড়ো মেয়েটিকে মাওলানা হেফজভুলা এক নাম সর্বস্ব হাফেজের সাথে বিয়ে দিয়েছে। যাকে আলেম বলা যায়না। ছোট্ট মেয়েটিও এক দাড়িমুন্ডা ব্যবসায়ী জাহেল ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছে এ অবস্থায়! তা দেখে আমার মনে ঘৃণাই সৃষ্টি হলো। আমি মাওলানার সাথে কোনো কথা দূরে থাক, দেখা না করেই চলে এলাম। মনে মনে বলতে গেলে এদের জানাযাই পড়ে ফেললাম। এরপর বলা চলে আমি মাওলানা আব্দুর রহীম ও তার আই, ডি, এল, দল ও গোলাম আযমদের জামাতে ইসলামীর লোকদের পৃথকভাবে ভাবা বাদ দিয়েছি। বরং ধরে নিয়েছি যে মওদুদীর ইসলামী সাহিত্য মজলিসের পুরাতন ও নুতন, সবাই একই মুদ্রার এপিট ওপিঠ। মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা করে কাঠমোল্লারা যেমন মানুষের সদকা, যাকাত, কোরবানীর চামড়া ও চাঁদা তুলে খায়, তেমন আধুনিক কায়দায় মুখরোচক কথাবার্তার ধুম্রজাল সৃষ্টি করে বই পুস্তক লিখে ব্যবসায়িকভাবে তা প্রকাশ করে “সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত” পন্থায় প্রাক্তন ইয়াহুদী-নাসারাদের পেশা করে বাতিল ভাবে মানুষের মাল ভক্ষণ করাই এদের দুনইয়া ও আখেরাত। এর ফাঁকে আমি অসুস্থ হয়ে প্রায় ছ’মাস শয্যাশায়ী হয়ে যাই। এর মধ্যে হঠাৎ করে মাওলানা আব্দুর রহীম মারা যায়। এভাবে বলা চলে যে, বাংলা ভাষার মাওলানা মওদুদী পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার লেখা সাহিত্যের উপরই অধ্যাপক আযমদের মওদুদী জামায়াত আজো চলছে। বুক ফাটা ব্যথায় আর্তনাদ স্বরূপ আমি হাশরের দিনের সাক্ষ্য লিখছি। পৃথিবীতে এর ভিত্তিতে বিপ্লব না হলেও এর ভিত্তিতে পরকালে নাজাতের পথ হবে, তাতে সন্দেহ নেই।
[এ হ’লো ইসলাম-ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব, পৃ.৩৫২]
জামাত নেতা মাওলানা আব্দুল রহীমের ছেলের ব্যবসাপাতি
ব্যাংকের সাথে মিলে রংপুরে একটি ভালো এল্যুমিনিয়াম কারখানা ক্রয়ের সুসংবাদ জানিয়ে বলে যে, এবার তার দৈন্যতা কাটার সুবন্দোবস্ত হয়েছে। আমি বললাম, ভালো, করো। আল্লাহ্ তোমার মঙ্গল করুন। তারপর সে বছর দেড়েক এ কারখানা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এরপর হঠাৎ করে বছর দেড়েক পূর্বে এসে বলে যে দু’বছর আগের বন্যায় তার অসুবিধা হয়ে তার কারখানার উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় রানিং ক্যাপিটালের অভাব পড়েছে। ইসলামী ব্যাংক একটি জামিনদার চাচ্ছে, তাহলেই ব্যাংক, তাকে মূলধন দিবে এবং এরপর আর তার কোনো ক্রাইসিস থাকবেনা। কারখানা ম্যানেজার ও কর্মচারীর হাতে দিয়ে সে মাসে দু’মাসে একবার কারখানার খোঁজ খবর নিলেই চলবে। তারপর সে তওবা তিল্লা করে তার বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নে আত্মনিয়োগ করবে। এর প্রস্তুতি স্বরূপ সে তার বাবার রূহানীকমি দূর করার জন্য তাবলীগের চিল্লা দিয়ে তাও পূরণ করার সুসংবাদ সময় মতো দিয়ে গেলো। ওদিকে ইসলামী বাংকের মতো প্রতিষ্ঠান যখন তাকে বিশ্বাস করে টাকা লগ্নী করেছে, তাই আমার কিছুটা আস্থা হলো ওর উপর। ওর সাময়িক অসুবিধা দূরের জন্য কিছু নগদ অর্থের যোগান দিয়ে বগুড়ার একটি কর্মঠ লোককে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। সেও ইসলামী চিন্তা চেতনার যুবক। সে তার বগুড়ার বাড়ী কোলেটারেল করে ওর সাথে পার্টনারশিপে যেতে প্রস্তুত হয়ে বাড়ী মর্টগেজের কাগজ পত্র তৈরী করতে লাগলো। ইতিমধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীমের ছেলে পরিচয়ে ওয়াহিদের প্রতি তার বিশ্বাস গাঢ় হলো। কিন্তু বগুড়ার লোকের মা ও ভাই-বোন ওয়াহিদের কোনো আচরণে তাকে মিথ্যুক ও প্রতারক মনে করে হঠাৎ করে বাড়ীর দলীল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসে। এ অবস্থায় মাওলানা আব্দুর রহীমের পুত্র ফাইল ও কাগজ পত্র নিয়ে ঢাকায় তার বগুড়ার হবু পার্টনার রেজাউল করীমের বাসায় ঝড় বৃষ্টি ও রোদ্রে গিয়ে ধর্ণার পর ধর্ণা দিয়ে তাকে এমন দুর্বল করে ফেলে যে, তাকে নিয়ে ওয়াহীদ আমার কাছে এসে, পারেনা তো পায়ে পড়ে যে আমার বাড়ির দলিল দিয়ে তাকে সাহায্য করি। আমি সারা জীবন যে ধরনের কাজের চতুসীমানায়ও যাইনা, আমি যেনো লজ্জায় পড়ে সে কাজ করে ওকে সাহায্য করতে গেলাম। অবশ্য এর মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহীমের এক বোনের ছেলে লোক পাঠিয়ে আমাকে সতর্ক করে দেয় যে মাওলানা আব্দুর রহীমের ছেলেরা একটিও মানুষ নয়। তাই আমি যেনো ওর ব্যাপারে সাবধান হই। কিন্তু ইতিমধ্যে কাজ এতদূর এগিয়ে যায় যে আমি বলতে গেলে মাওলানা আব্দুর রহীমের স্মৃতির লজ্জায় পড়ে জামানতের কাগজে দস্তখত করে দেই। পয়সা পেয়েই প্রতারক তার বউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে গিয়ে কারখানায় উঠে। সেখান থেকে লক্ষাধিক টাকা নগদ সরিয়ে তার দ্বিতীয় মেয়েকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করে। এল্যুমিনিয়াম ফ্যাক্টরীর আসল লাভ হলো গলানো মালের ছাই থেকে উৎপন্ন এল্যুমিনিয়াম বাট। ওয়াহিদ পূর্বেই ঢাকায় নাখালপাড়ায় তার বাসার কাছে ব্যাংকে তার নিজের নামে একাউন্ট খুলে কারখানা থেকে বাট ঢাকায় বিক্রির নামে পাচার করে তা বিক্রি করে তার ফ্লাট নির্মাণ আরম্ভ করেছিলো। পূর্বে সে প্রচার করতো যে তার বড়ো মেয়ে ইংলিশ স্কুলে শিক্ষকতা করে ও কোচিং ক্লাশ করে তার আয়ে তার ছেলেদের পড়াচ্ছে এবং তার সংসারও চালাচ্ছে। সে কারখানা থেকে কোনো অর্থ নেয়না। কারখানা দাঁড়িয়ে গেলে লভ্যাংশ নিবে। তার ব্যাপার স্যাপার লক্ষ্য করে আমার সন্দেহ হলে আমি সরাসরি একবার গিয়ে কারখানায় উপস্থিত হই। হিসাব পত্র ও খাতাপত্র হাতে নিয়ে দেখি ওর সব কিছু মিথ্যা। ওর টেবিলে মেয়ে সম্পর্কে ওরই লেখা বিবরণে জানা গেলো যে ওর বড়ো মেয়ের “এ” লেভেল পড়া মিথ্যা। মেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ঐ লেভেলের মেয়েরা যা করে, সে তাই করছে। পরে আরো খোঁজ নিয়ে জানা গেলো যে মাওলানা আব্দুর রহীমের এ নাতনীটি বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলো। সেখানে থেকে বিনা তালাকে ধরে এনে মাওলানার আমেরিকা বাসী ছেলের মাধ্যমে তাকে “এ” লেভেল পাশ বলে প্রবাসী এক ছেলের সাথে টেলিফোনে বিয়ে দিয়েছে। মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা মিথ্যা হওয়ায় তার ভিসা হবে না বুঝতে পেরে মেয়ে আমেরিকান বিয়ে নাকচ করে দিয়ে এখানে এক ছেলে ম্যানেজ করে নেয়। এই মেয়ে ও তার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঐ কারখানার কোয়ার্টারে ওয়াহিদ মিয়া উঠে। ফলে বগুড়ার রেজাউল করীম ঐ অবস্থা দেখে ঢাকায় চলে আসে। এর ফাঁকে ওয়াহিদ নেহারাবাট ঢাকায় পাচার করে তা বিক্রি করে তার তিন রুমের মোজাইক করা ফ্লাট কমপ্লিট করে ফেলে। এভাবে মাওলানা আব্দুল রহীমের ছেলে মুস্তফা ওয়াহিদুজ্জামানের বিনা পুঁজির ব্যবসায় ফ্লাট নির্মাণ হয়, ও কারখানার মূলধন ক্ষয় হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার জন্য কারখানায় সে তার ম্যানেজার, ফোরম্যান ও আরো লোক পার্শ্বচর রাখে, যাদের বখরা দিয়ে সে তার উদ্দেশ্য সফল করে।
[এ হ’লো ইসলাম-ইয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ তোয়াহা বিন হাবীব, পৃ.৩৫৭]



খুব ভালো লাগলো।
এধরণের আরও লেখা চাই
LikeLike